বাংলায় জোট রাজনীতির পথ ছেড়ে ‘একলা চলো’ নীতিতে ফেরার স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাহুল গান্ধী। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে দুই আসনে জয়ের পর নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিলেন—এই ফলই নতুন শুরুর ইঙ্গিত, সংগঠন মজবুত করেই বিজেপির বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি হয়ে উঠতে হবে কংগ্রেসকে।
দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল ফরাক্কার বিধায়ক মোতাব শেখ এবং রানীনগরের বিধায়ক জুলফিকার আলিকে। বৈঠকে রাহুল গান্ধী তাঁদের সামনে পরিষ্কার করে দেন, দীর্ঘদিন জোট নির্ভর রাজনীতি কংগ্রেসকে সংগঠনিকভাবে দুর্বল করেছে। তাই এবার নিজেদের শক্তিতে ভর করেই রাজ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল নিতে হবে।


সূত্রের খবর, বৈঠকে রাহুল বলেন—এই দুই আসনের জয় কেবল শুরু। বাংলার মানুষ বিকল্প খুঁজছেন, এবং সেই জায়গায় কংগ্রেসকে নিজেদের তুলে ধরতে হবে। বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠন পুনর্গঠন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর করা এবং নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বে আনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিধানসভায় সরব থাকার পাশাপাশি মাটির স্তরে মানুষের সমস্যা শুনে আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব, নারী নিরাপত্তা ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের মতো ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের অন্দরে স্পষ্ট বার্তা—এবার আর কোনও জোট নয়। নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারই প্রধান লক্ষ্য। পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই সংগঠনকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


দীর্ঘদিন পর রাজ্যে শূন্য ভেঙে দুই আসনে জয় কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই ভবিষ্যতের লড়াইয়ে নামতে চাইছে দল। আপাতত এই দুই বিধায়কই বাংলায় কংগ্রেসের পুনরুত্থানের মুখ হয়ে উঠছেন।







