দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লিতে রবিবার দুপুরে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পাঁচতলা একটি বাড়ি। চাণক্যপুরীর কাছে মোতি বাগ এলাকায় এই ঘটনায় বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নীচে বেশ কয়েক জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। শুরু হয়েছে জোরকদমে উদ্ধারকাজ।
রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ বাড়িটি ভেঙে পড়ে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ, দমকলের কাছে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছয়। প্রথমে আটটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আরও কয়েকটি ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছয়।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, বাড়িটি মূলত আবাসিক হলেও সেখানে বহু পড়ুয়া ‘পেইং গেস্ট’ হিসেবে থাকতেন। রবিবার হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সেই সময় বাড়িতে ছিলেন। ফলে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ঘটনার সময় বাড়িটির ভিতরে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া থাকতে পারেন। তবে প্রশাসনের তরফে এখনও এমন কোনও সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। বাড়িটির আশপাশের বেশ কয়েকটি ভবনেও পড়ুয়ারা পেইং গেস্ট হিসেবে থাকেন।
পাশের একটি বাড়িতে থাকা এক পড়ুয়া সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI)-কে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে কয়েক জনের আর্তনাদ তাঁর কানে এসেছে। সেই দাবির সত্যতা যাচাই করে উদ্ধারকারী দলও ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছে।
বাড়িটির নীচে একাধিক গাড়ি পার্ক করা ছিল। ভবনটি ভেঙে পড়ার ফলে সেই গাড়িগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধারকাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য পুলিশ এলাকা ঘিরে রেখেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) অমিত গোয়ল জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নীচে ঠিক কত জন আটকে রয়েছেন, এই মুহূর্তে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মা (Anil Sharma)। তিনি আটকে পড়া প্রত্যেককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার জন্য প্রার্থনা করার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta)-ও পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠিয়েছেন।
দুর্ঘটনাস্থল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ায় এলাকায় বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার বসবাস। সেই কারণে বাড়িটি ধসে পড়ার পর নিখোঁজ বা আটকে পড়া পড়ুয়াদের নিয়ে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। আপাতত উদ্ধারকারী দলের মূল লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ভিতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনো।



