রবিবার উত্তর কলকাতার একটি পুজোর খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) প্রসঙ্গে নাম না করে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছেন এবং ‘জন বিচ্ছিন্ন’ হয়ে মানুষের পাশ থেকে সরে গিয়েছেন। তবে বিজেপি ক্যাম্পাসে ঢুকবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
এদিন সকালে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের বাড়িতে বৈঠক করেন শমীক। এরপর শতদল সংঘের খুঁটিপুজোয় যোগ দেন তিনি। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে উত্তর কলকাতার পুজোর ঐতিহ্য, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা-সহ একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত বলে চিহ্নিত কিছু দেওয়াল লিখন মুছে দিয়েছিলেন। অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে মুছে দেওয়া জায়গাতেই ফের স্লোগান লেখা হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে পাল্টা লেখালেখি শুরু করে ABVP। সংগঠনের দাবি, নীতিগত অবস্থান থেকেই তারা ‘ফ্রি পিওকে’ এবং ‘ফ্রি আকসাই চিন’-এর মতো স্লোগান লিখেছে। পাশাপাশি লেনিন-বিরোধী স্লোগানও লেখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ABVP-র বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি দেওয়াল লিখনের ক্ষেত্রে সব পক্ষের জন্য একই নীতি গ্রহণ করে, তাহলে তারাও দেওয়াল লিখন বন্ধ করার বিষয়ে ভাবতে পারে। অর্থাৎ, কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে আলাদা ব্যবস্থা না নিয়ে সব পক্ষের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রয়োগের দাবি তুলেছে তারা।
অন্যদিকে, এই বিতর্কে SFI রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে (Debanjan Dey) বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার জায়গা এবং সেখানে যে কেউ দেওয়াল লিখন বা প্রচার করতে পারেন। তাঁর দাবি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে ছাত্রছাত্রীরা কোন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করছেন, সেটিও স্পষ্ট হবে।
শমীক অবশ্য সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না নিয়েই বলেন, ‘‘কেউ কেউ জন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে, মানুষের পাশ থেকে সরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে স্লোগান দিচ্ছে।’’ এরপরই বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, তাঁরা ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকবেন না।
তবে একইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দেশের অখণ্ডতা-বিরোধী বা হিংসার ইঙ্গিতবাহী কোনও বক্তব্য লেখা বা প্রকাশ করা হলে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা আর সহ্য করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি।
যাদবপুরের দেওয়াল লিখনকে ঘিরে ABVP এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই শমীকের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দেওয়াল লিখন এবং পুলিশের ভূমিকা—এই তিনটি বিষয়ই এখন ফের আলোচনার কেন্দ্রে।



