লাদাখের দাবিদাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে ফের সংঘাতের আবহ। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকের পরও যদি দাবিগুলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ফের সরব হচ্ছে লেহ অ্যাপেক্স বডি ও কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (KDA)।
লেহ অ্যাপেক্স বডির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে লাদাখের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা। সেই আলোচনায় দাবিগুলি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি আরও তীব্র হতে পারে বলে বার্তা দিয়েছেন ওয়াংচুক।
সোনম ওয়াংচুকের বক্তব্য, লাদাখ ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে যদি কেন্দ্র ‘বিমাতৃসুলভ’ আচরণ করে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনও পথ থাকবে না। দীর্ঘদিন ধরে লাদাখের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে লেহ অ্যাপেক্স বডি এবং কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স।
শুধু হুঁশিয়ারিতেই থেমে থাকছেন না ওয়াংচুক। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সেই পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা। একইসঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের কাছেও লাদাখের দাবির পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
লাদাখের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা। পাশাপাশি সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিও দীর্ঘদিনের। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এর মাধ্যমে লাদাখের স্থানীয় মানুষকে জমি, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং প্রশাসনিক বিষয়ে আরও বেশি সাংবিধানিক সুরক্ষা ও স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পুনর্গঠনের পর লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা-সহ একাধিক দাবিতে সরব লাদাখের বিভিন্ন সংগঠন। সময়ের সঙ্গে সেই আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।
এর আগেও লাদাখের দাবিতে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ওয়াংচুক। সেই সময় আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন জেলেও ছিলেন তিনি। এবার ৯ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে লাদাখের আন্দোলনকারীরা। আলোচনার পর কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপরই পরবর্তী আন্দোলনের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।



