বারাসতে ঘাঁটি গেড়েছিল খুনিরা! চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় বিরাট ব্রেক থ্রু পেল সিবিআই

বারাসত রেলগেটের কাছে দীর্ঘক্ষণ পার্ক করা গাড়ির সূত্র ধরে তদন্তে গতি, বহুরাজ্য জুড়ে ছড়ানো চক্রের সন্ধানে সিবিআইয়ের বিশেষ টিমের তৎপরতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চাঞ্চল্যকর চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে তদন্তে বড় মোড়—বারাসত রেলগেটের কাছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল আততায়ীদের গাড়ি, আর সেই সূত্র ধরেই এখন জাল গুটোতে নেমেছে সিবিআই (Central Bureau of Investigation)। ইতিমধ্যেই ৭ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে মাঠে নেমেছে সিবিআই, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি পঙ্কজ কুমার সিং।

রাজ্য সরকারের সুপারিশে এই মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সিবিআই দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে নমুনা সংগ্রহ, প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং ঘটনার পুনর্গঠন করা হয়। তদন্তকারীদের লক্ষ্য—খুনের পরিকল্পনা থেকে পালানোর রুট পর্যন্ত পুরো চিত্র স্পষ্ট করা।

৬ মে রাতের সেই রক্তাক্ত ঘটনায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে রাস্তার মাঝখানে গাড়ি আটকে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। ঘটনার সময়টা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ—মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে এই হামলা ঘটে, যা গোটা প্রশাসনকে নাড়িয়ে দেয়।

বারাসতে ঘাঁটি গেড়েছিল খুনিরা! চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় বিরাট ব্রেক থ্রু পেল সিবিআই

বারাসতে ঘাঁটি গেড়েছিল খুনিরা! চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় বিরাট ব্রেক থ্রু পেল সিবিআই
বারাসতে ঘাঁটি গেড়েছিল খুনিরা! চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় বিরাট ব্রেক থ্রু পেল সিবিআই

এখনও পর্যন্ত তদন্তে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা দুই শার্প শ্যুটার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত তাঁদের ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এখনও অধরা। কারা সুপারি দিয়েছিল, কে বা কারা স্থানীয়ভাবে রেকি এবং লজিস্টিক সাহায্য করেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই।

সিবিআই সূত্রে খবর, এই মামলায় বহুরাজ্য জুড়ে তদন্ত চালাতে দিল্লি, পটনা, ধানবাদ, রাঁচি ও লখনউয়ের অভিজ্ঞ অফিসারদের নিয়ে বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই খুনের ছক একাধিক রাজ্যে বসে কষা হয়েছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি সূত্রও। ধৃত ময়ঙ্ক রাজ মিশ্র বিহারের বক্সার থেকে একটি নিসান মাইক্রা গাড়িতে এসে বিরাটি মোড়ে নামে। এরপর সেই গাড়িটি বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটের সামনে প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল—বিকেল ৪টা ৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। তদন্তকারীদের ধারণা, এই সময়েই এলাকা রেকি করা হয় এবং অপারেশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এরপর গাড়িটি দোহারিয়ার দিকে যায়, যেখানে ঘটে মূল হামলা। কাজ সেরে অভিযুক্তরা দ্রুত শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে চেপে পালায় বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের গন্তব্য ছিল উত্তরপ্রদেশের বালিয়া ও বিহারের বক্সার।

তবে তদন্ত এখানেই থেমে নেই। বিমানবন্দরের কাছ থেকে একটি মোটরবাইক উদ্ধার হওয়ায়, কেউ বিমানে পালিয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনায় ব্যবহৃত একটি স্কুটারের খোঁজেও জোর তল্লাশি চলছে।

সব মিলিয়ে, গ্রেফতারি হলেও খুনের নেপথ্যের আসল মাস্টারমাইন্ড এখনও ধরা না পড়ায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। সিবিআইয়ের এই বহুমুখী তদন্তেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত