হেলমেট না পরলেই পেতে হবে শাস্তি, গরু পাচার রুখতে কড়া নির্দেশিকা জারি পুলিশের

হেলমেট বাধ্যতামূলক থেকে গরু পাচার রুখতে অভিযান—পাঁচ দফা নির্দেশিকায় রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আইনশৃঙ্খলা শক্ত হাতে ধরতে রাজ্যজুড়ে বড় পদক্ষেপ—হেলমেট বাধ্যতামূলক করা থেকে শুরু করে গরু পাচার ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান, একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল পুলিশ। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা—নিয়ম ভাঙলে আর রেয়াত নয়, মাঠে নেমেই ফল দেখাতে হবে।

পুলিশের শীর্ষস্তর থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলা পুলিশ সুপার, কমিশনার (কলকাতা বাদে) এবং রেল পুলিশ সুপারদের কাছে পাঁচ দফার এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার প্রতিটি ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে এবং দ্রুত ফল পেতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে। বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক—এই নিয়ম কার্যকর করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোটর ভেহিক্যাল আইনের প্রয়োগে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিদিনের অভিযান রিপোর্ট সরাসরি ঊর্ধ্বতন দফতরে জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের সমস্যায় পরিণত হওয়া গরু পাচার ও তোলাবাজির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও অবৈধ গবাদি পশুর হাট বা কসাইখানা চলতে দেওয়া হবে না। বেআইনি খনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীরা যাতে দুষ্কৃতীদের চাপে না পড়েন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে ‘অ্যানিম্যাল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ২০১৪’-এর কঠোর প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৫ মে-র মধ্যে প্রতিটি থানার মালখানায় থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব যাচাই করতে হবে ওসি বা আইসিদের। রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার দায়িত্ব তাঁদেরই। এরপর ১৬ মে থেকে টানা দুই সপ্তাহ ধরে রাজ্যজুড়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলবে।

এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হওয়া হিংসার মামলাগুলিকে নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মামলায় আগে ফাইনাল রিপোর্ট জমা পড়েছিল, সেগুলিও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। কোথাও গাফিলতি ধরা পড়লে নতুন করে তদন্ত শুরু করা হবে।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অপরাধ দমনে সমন্বয় বাড়াতেও জোর দেওয়া হয়েছে। থানা স্তরে প্রতি মাসে এবং এসডিপিও স্তরে প্রতি তিন মাসে বৈঠক করে গোপন তথ্য আদান-প্রদান ও অভিযানের পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, এই কড়া নির্দেশিকা কার্যকর হলে রাজ্যে অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত