‘বামেদের বাদ দিয়ে সংসদীয় রাজনীতি অসম্পূর্ণ’, বিধানসভায় প্রথম বলতে উঠে বুঝিয়ে দিলেন মুস্তাফিজুর

অষ্টাদশ বিধানসভায় একমাত্র বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান বললেন, বামপন্থীদের বাদ দিয়ে ভারতের সংসদীয় রাজনীতি পূর্ণতা পায় না।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সংখ্যায় এক, কিন্তু বক্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। অষ্টাদশ বিধানসভায় একমাত্র বাম বিধায়ক হিসেবে দাঁড়িয়ে বাম রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরলেন ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের আলোচনা ছাড়া পূর্ণতা আসবে না।” একইসঙ্গে প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং হাসিম আব্দুল হালিমের উদাহরণ টেনে স্পিকারের নিরপেক্ষ ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

শুক্রবার নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন মুস্তাফিজুর রহমান। বিধানসভার ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই বিধানসভায় ডক্টর প্রফুল্ল ঘোষ, বিধানচন্দ্র রায়, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা কাজ করেছেন। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর পদধূলিতেও ধন্য এই বিধানসভা।”

ডোমকলের দীর্ঘদিনের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আনিসুর রহমানের কথাও স্মরণ করেন তিনি। একইসঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাও স্বীকার করে নেন সিপিএম বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, “এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। মানুষ তাদের ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সংসদ ও বিধানসভার মূল ভূমিকা বিরোধীদেরও।”

বিরোধীদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে মুস্তাফিজুর বলেন, “সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করা, ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া— এটাই বিরোধীদের প্রধান দায়িত্ব। সরকারকে আয়নার সামনে দাঁড় করানোর কাজ করে বিধানসভা।”

এরপরই আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, “গতবার আমরা শূন্য হয়েছিলাম। এবার মানুষ একজন বাম প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। আমি একা। কিন্তু আমি যে দলের সদস্য, সেই দলকে বাদ দিয়ে ভারতের সংসদীয় রাজনীতি পূর্ণতা পাবে না।”

লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে দেশের অন্যতম সেরা স্পিকার বলে উল্লেখ করেন মুস্তাফিজুর। পাশাপাশি বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিমের নিরপেক্ষ ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “স্পিকার কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে সবাই হাসিম আব্দুল হালিমের নামই নেবেন।”

নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে বিশেষ আবেদনও জানান সিপিএম বিধায়ক। তিনি বলেন, “সংখ্যার বিচারে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর যাতে চাপা না পড়ে, সেটা আগামী পাঁচ বছর আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে।”

বক্তৃতা দীর্ঘ হওয়ায় স্পিকার তাঁকে সংক্ষিপ্ত করতে বললে মুস্তাফিজুর ‘সরি’ বলে বক্তব্য শেষ করেন। তবে শেষ মুহূর্তেও বিরোধীদের অধিকারের প্রশ্নে সরব ছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বিরোধীদের যেন বেশি করে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। তাহলেই আমরা মানুষের দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারব।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন