পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে যখন জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাঁচ দেশের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পৌঁছেই এলপিজি সরবরাহ, কৌশলগত তেল মজুত এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করল ভারত। আন্তর্জাতিক সঙ্কটের আবহে এই ‘ডিল’-কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
শুক্রবার দুপুরে আবু ধাবি পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিমানবন্দরে তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়ের আল নাইয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেই বৈঠকেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি সই হয়।


চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে ভারতে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু এলপিজি নয়, স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা কৌশলগত তেল মজুত নিয়েও মউ সই করেছে দুই দেশ। জরুরি পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সঙ্কট বা যুদ্ধের সময়ে যাতে জ্বালানি সরবরাহে টান না পড়ে, তার জন্য ভারতকে সহায়তা করবে আরব আমিরশাহি। মূল লক্ষ্য, তেলের সরবরাহ চেনকে আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল করা।
এই চুক্তির আগে থেকেই দেশে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নিজেই পেট্রল-ডিজেল ব্যবহারে সংযমের বার্তা দিয়েছিলেন। বিদেশ ভ্রমণ কমানো, সোনা কেনা এড়ানো এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাড়ানোর মতো পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। তার ঠিক পরেই দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ে এবং সিএনজির মূল্যও বৃদ্ধি পায়।


এদিকে, জ্বালানি ক্ষেত্রের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাতেও জোর দিয়েছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নিয়ে চুক্তি হয়েছে। সামরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা সমন্বয় বাড়ানোর রূপরেখাও তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এছাড়া গুজরাটের ভাদিনারে একটি বড় শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার গড়ে তোলার বিষয়েও চুক্তি হয়েছে। সেখানে বাণিজ্যিক, তেলবাহী এবং মালবাহী জাহাজের মেরামতির পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।
আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় মোদীর এই সফর এবং একাধিক চুক্তিকে ভারতের জ্বালানি ও কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



