যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে জমজমাট লড়াইয়ের পর ইন্ডিয়ান আর্মিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের হয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন পিভি বিষ্ণু। তবে ব্যবধান আরও বাড়ানোর একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচের ফল নিয়ে সংশয় ছিল।
শক্তিশালী গ্রুপ ‘এ’ থেকে দ্বিতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’-তে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে শীর্ষস্থান দখল করেছিল ইন্ডিয়ান আর্মি। সেই হিসেবে কাগজে-কলমে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে থাকলেও মাঠে লাল-হলুদকে যথেষ্ট বেগ দেয় আর্মি দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। ডেভিডের পাস থেকে দানি রামিরেজের শট অবশ্য আটকে দেন ইন্ডিয়ান আর্মির গোলরক্ষক ভাবিন্দর মাল্লা ঠাকুরি।
এর পরেই পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে আর্মি। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে অভিষেক শঙ্করের জোরালো শট কঠিন দক্ষতায় আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক ফুরবা টেম্পা লাচেম্পা। এদিন নিয়মিত গোলরক্ষক প্রভসুখন গিলকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।
১২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন রামিরেজ। তাঁর শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। মিনিট দশেক পর লালচুংনুঙ্গার দূরপাল্লার শটও আটকে দেন আর্মির গোলরক্ষক।
ক্রমশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। ৩৫ মিনিটে ফের গোলের চেষ্টা করেন রামিরেজ। তবে আর্মির গোলরক্ষক এগিয়ে আসায় দূর থেকে নেওয়া তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অবশেষে ৩৯ মিনিটে আসে বহু প্রতীক্ষিত গোল। বাঁ দিক থেকে ইকোনোমিডিসের নিখুঁত ক্রস খুঁজে নেয় পিভি বিষ্ণুর মাথা। দুরন্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তরুণ ফরোয়ার্ড। ১-০ এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
গোল করার পর উচ্ছ্বাসের মধ্যেই পায়ে চোট পান বিষ্ণু। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য ফের মাঠে নামেন তিনি। এক গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে লাল-হলুদ।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করে হাবাসের দল। ৫৮ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন তিনি। ডেভিডের জায়গায় জেসিন টিকে এবং ইকোনোমিডিসের পরিবর্তে এডমুন্ড মাঠে নামেন।
মাঠে নেমেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন জেসিন। রশিদের বাড়ানো বল কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ৭৯ মিনিটেও ফের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জেসিন। তাঁর সামনে তখন প্রায় ফাঁকা গোল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বল জালে জড়াতে পারেননি।
৮৩ মিনিটে আবার সুযোগ তৈরি করে ইস্টবেঙ্গল। জেসিনের পাস থেকে বিপিনের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। চার মিনিট পরও গোলের সুযোগ তৈরি হয়, কিন্তু ব্যবধান আর বাড়েনি।
ইস্টবেঙ্গলের গোল নষ্টের তালিকা দীর্ঘ হলেও ইন্ডিয়ান আর্মিও শেষ পর্যন্ত লড়াই ছাড়েনি। বারবার লাল-হলুদ রক্ষণে চাপ তৈরি করেছিল তারা। কয়েকটি আক্রমণ বিপজ্জনক জায়গাতেও পৌঁছয়। কিন্তু শেষ পাস এবং ফিনিশিংয়ের অভাবে সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে বিষ্ণুর করা সেই একমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ডুরান্ড কাপের শেষ চারে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। তবে সেমিফাইনালের আগে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে হাবাসের দলকে যে আরও ধারালো হতে হবে, যুবভারতীর ম্যাচে সেটাই সবচেয়ে বড় বার্তা।



