শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ খুনে তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। রাজ্য পুলিশের সুপারিশের পর মঙ্গলবার থেকেই এই বহুচর্চিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করছে সিবিআই। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পেশাদার শুটারদের জড়িত থাকার ইঙ্গিত মিলতেই তদন্তে বাড়ছে চাঞ্চল্য। ডিজিট্যাল ট্র্যাকিং, টোলপ্লাজ়ার তথ্য এবং আন্তঃরাজ্য অভিযান—সব মিলিয়ে চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড এখন জাতীয় স্তরের তদন্তের কেন্দ্রে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের তদন্তে এবার সরাসরি নামছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই মামলার জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হবে। কলকাতা জ়োনের যুগ্ম নির্দেশকের অধীনে কাজ করবে সেই টিম। তদন্তের প্রয়োজনে একাধিক অভিজ্ঞ আধিকারিককে দলে নেওয়া হবে বলেও সূত্রের খবর।


ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিন জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম ময়ঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং রাজ সিংহ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে অন্তত এক জন পেশাদার শুটার। ময়ঙ্ক ও ভিকিকে বিহারের বক্সার জেলা থেকে এবং রাজকে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত তাদের ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
রাজ্য পুলিশের তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দলেই ছিলেন এসটিএফ ও সিআইডির আধিকারিকেরা। তারাই প্রযুক্তিগত তথ্য, ডিজিট্যাল ট্র্যাকিং এবং আন্তঃরাজ্য সূত্র কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তদের খোঁজ পায়। তদন্তে উঠে এসেছে, খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল। বালি টোলপ্লাজ়ায় অনলাইনে টোল দেওয়ার সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে ঘটে যায় এই চাঞ্চল্যকর খুন। চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে আচমকা অন্য একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়। বাধ্য হয়ে গাড়ি থামাতেই দু’দিক থেকে বাইকে চেপে আসে দুষ্কৃতীরা। তারপর লক্ষ্য করে চলে এলোপাথাড়ি গুলি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথ রথের। গুরুতর জখম হন তাঁর গাড়ির চালক, যিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।









