রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক বৈঠকেই বড় বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারীর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন তিনি। নবান্নে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দুর মন্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ ১৫ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার নবান্নের ১৪ তলায় প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, বিধায়ক এবং রাজ্যের একাধিক উচ্চপদস্থ আমলা। পরে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও প্রশাসনিক একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই শুভেন্দু স্পষ্ট নির্দেশ দেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে যেন কোনওরকম আপস না হয়। উনি অনেক ভুল কাজ করেছেন, কিন্তু গত ১৫ বছর এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সেটা মাথায় রাখতে হবে।”
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে উত্তেজনার একাধিক ছবি সামনে আসে। বাড়ির আশপাশ থেকে নিরাপত্তার গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি বাইক মিছিল, স্লোগান এবং বিক্ষোভের ঘটনাও সামনে আসে।
এই পরিস্থিতি নিয়েই বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ওনার বাড়ির বাইরে যে গন্ডগোলের ঘটনা ঘটছে, এগুলো যেন আর না হয়।”


প্রশাসনিক সূত্রে খবর, শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, এদিন বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। একজন সাংসদকে কেন বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই অভিষেকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপিকে নির্দেশ দেয় রাজ্য পুলিশ।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশাসন বাড়তি সতর্ক, এই বৈঠক তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



