লোকসভায় বিদ্রোহী সাংসদদের পৃথক অবস্থানের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা যখন তুঙ্গে, তখন নতুন করে জোরালো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা শিবিরে ভাঙনের আশঙ্কা। দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের কয়েকজন রাজ্যসভার সাংসদের বৈঠকের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরে ক্রমশ বাড়তে থাকা অসন্তোষ সামাল দিতে কার্যত চাপে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্ব।
লোকসভায় বিদ্রোহী শিবিরের ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই নিজেদের জন্য আলাদা আসনের দাবি জানিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেছেন। স্পিকারের দিল্লি ফেরার পর এই প্রক্রিয়া আরও গতি পেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এর মধ্যেই রাজ্যসভার কয়েকজন সাংসদের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের খবর নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


বিজেপির দাবি, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অসন্তোষ, নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সাধারণ কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি। ফলে দলের ভিতরে ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরেই জমা হচ্ছিল।
দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের তৎপরতাও ক্রমশ বাড়ছে বলে সূত্রের দাবি। প্রথম দফায় দ্বিধায় থাকা কয়েকজন সাংসদও শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন বলে খবর। একই সঙ্গে রাজ্যসভার একাংশের সাংসদদের অবস্থান নিয়েও জল্পনা তীব্র হয়েছে।
এই আবহে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, যারা দলের আদর্শ থেকে সরে গিয়েছেন, তাদের নৈতিকতার খাতিরে সাংসদ পদ ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে মানুষের সামনে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়কে নিশানা করে তিনি দলের পুরনো লড়াইয়ের ইতিহাসও তুলে ধরেন।


অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরে থাকা সাংসদদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনী পরাজয়ের পর দলের ভিতরে কোনও আত্মসমালোচনা হয়নি। প্রার্থী নির্বাচন থেকে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত— একাধিক বিষয়ে নেতাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। এই ক্ষোভই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তাঁরা।
অভিনেতা-সাংসদ দেবের অবস্থান নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতির খবর সামনে এলেও পরে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সমর্থন অটুট রয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা উসকে দিয়েছে।
এদিকে দিল্লিতে অবস্থান করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে সেই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভার পর যদি রাজ্যসভাতেও ভাঙনের ছবি সামনে আসে, তাহলে তা তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই ঠিক করে দেবে এই সংকট সাময়িক, নাকি বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের সূচনা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



