লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাতেও বড়সড় অস্বস্তির মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার পর এবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দিলেন সুস্মিতা দেব। একের পর এক পদত্যাগে তৃণমূলের সংসদীয় শক্তি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, সুস্মিতা দেবের এই সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো তিনিও ইস্তফার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও তাঁর তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।


২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পর দলের জাতীয় বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবেই সুস্মিতা দেবকে কংগ্রেস থেকে দলে আনা হয়েছিল। ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।
দলে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে সরাসরি রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়। পাশাপাশি ত্রিপুরা ও অসমে তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী করার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছিল। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলীয় বিস্তারের যে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
অন্যদিকে, বাংলার বাইরের একজন নেত্রীকে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্তে সে সময় দলের বহু পুরনো নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের অন্দরে সেই ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরেই চাপা অবস্থায় ছিল বলে জানা যায়।


বর্তমানে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় মোট ১৬টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ১৩টি আসন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই সংখ্যা দ্রুত কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার পর অভিনেত্রী তথা সাংসদ কোয়েল মল্লিকও পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে সুস্মিতা দেবের ইস্তফা কার্যকর হলে একসঙ্গে তিনটি রাজ্যসভা আসন শূন্য হয়ে যাবে। বিধানসভার বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্কের দিকে তাকিয়ে বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, ভবিষ্যতের নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনে আসতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



