রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে টানা জল্পনার অবসান ঘটল। নবান্নে দীর্ঘ বৈঠকের পর মঙ্গলবার মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টনের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশ না হলেও প্রশাসনিক সূত্রে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের একাধিক তথ্য সামনে এসেছে।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতেই রাখছেন রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তর। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পাশাপাশি আইন, বিদ্যুৎ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দায়িত্বও তাঁর কাছেই থাকবে। প্রশাসনের মূল নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে সরকারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিতে চান তিনি।
অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব পেতে চলেছেন বিজেপির অন্যতম অভিজ্ঞ মুখ স্বপন দাশগুপ্ত। অন্যদিকে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায়কে। নতুন সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিল্প বিনিয়োগের রোডম্যাপে এই দুই মন্ত্রকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব যাচ্ছে চিকিৎসক-রাজনীতিক ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের হাতে। স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
বারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হতে পারে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের মতো শিক্ষা দপ্তরকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে দীপক বর্মণকে।
কৃষি দপ্তরের দায়িত্বে থাকছেন বিজেপির আদি মুখ দুধকুমার মণ্ডল। পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী হচ্ছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বন ও পরিবেশ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে মনোজ ওঁরাওকে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টির মধ্যে ২০৮টি আসনে জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে বিজেপি। এরপর ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ প্রথম দফার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। পরে ১ জুন আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন।
শপথের পর থেকেই মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন শুধু সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা।



