‘অন্তহীন যুদ্ধ থামুক’, পুতিনকে মোদীর আর্জি, ইউক্রেন নিয়ে ‘বন্ধু’ রুশ প্রেসিডেন্টকে বড় বার্তা

বিশকেকে SCO সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের পক্ষে সওয়াল করলেন নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি ভারত-রাশিয়ার বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চেয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) কাছে সরাসরি শান্তির বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। কিরঘিজস্তানের বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদী বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়। তাই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত না করে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সোমবার বিশকেকে মুখোমুখি হন দুই রাষ্ট্রনেতা। বৈঠকের শুরুতেই সৌহার্দ্যের ছবি ধরা পড়ে। পরস্পরকে করমর্দন করার পাশাপাশি কোলাকুলিও করেন মোদী ও পুতিন। এরপরই ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদীর বার্তা, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে নিয়ে যায়।” তাঁর মতে, অন্তহীন যুদ্ধের পরিবর্তে এখন যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোনোর সময় এসেছে। জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সামনে এগোতে হবে বলেও বার্তা দেন তিনি।

ভারত যে বরাবরই শান্তি ও আলোচনার পক্ষে, বৈঠকে সেই অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছেন—এই কথাও তুলে ধরেন মোদী। ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাই তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে পুতিনও ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নজরের কারণেই দুই দেশের ‘প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকের শুরুতেই মোদী পুতিনকে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। রুশ প্রেসিডেন্টের আগের ভারত সফরের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সফর অত্যন্ত সফল ও স্মরণীয় হয়েছিল। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ওই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, মানুষের যাতায়াত এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছেন দুই নেতা।

বিশকেকে এই বৈঠকের আগে থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মোদীর অবস্থান বিশেষ নজরে ছিল। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেও নয়াদিল্লি বারবার যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে। এবার পুতিনের সামনেই সেই বার্তা আরও স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকের পর মোদী নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিয়োও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ সবসময়ই আনন্দের। একইসঙ্গে ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশকেকে ২৬তম SCO সম্মেলন ৩১ অগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলন SCO-র ২৫ বছর পূর্তির সঙ্গেও যুক্ত। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

ফলে পুতিনের সঙ্গে মোদীর এই বৈঠক শুধু ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের জন্য নয়, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ। মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রেখেই যুদ্ধের অবসানের পক্ষে ভারতের বার্তা—বিশ্ব কূটনীতিতে ফের একবার সেই ভারসাম্যের ছবিই সামনে আনল বিশকেক বৈঠক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর