‘দ্রুঝবা-দোস্তি’, মোদির জন্মদিনে পুতিনের বার্তা! আমেরিকার চাপের মাঝেই দিল্লি-মস্কোর বন্ধুত্বে নতুন সুর

মোদির ৭৬তম জন্মদিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ বার্তা। ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে মোদির ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি উঠে এল আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তা পাঠালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারত-রাশিয়ার ‘বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মোদির ব্যক্তিগত ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রতিনিধিদলের প্রতি ভারতের আতিথেয়তার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পুতিন।

ভারতে অবস্থিত রুশ দূতাবাস তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে পুতিনের শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশ করেছে। সেখানে নজর কেড়েছে ‘DruzhbaDosti’ হ্যাশট্যাগ। রুশ ভাষায় ‘Druzhba’ অর্থ বন্ধুত্ব, আর হিন্দিতে ‘Dosti’ একই অর্থ বহন করে। ফলে দুই ভাষার এই শব্দজোড়ার মাধ্যমে ভারত-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতীকী বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে।

পুতিন তাঁর বার্তায় বলেছেন, মোদি নিজের দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মোদির অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

দুই নেতার সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গও এসেছে পুতিনের বার্তায়। তাঁর কথায়, মোদির সঙ্গে আলোচনা ছিল ‘গুরুত্বপূর্ণ, খোলামেলা এবং ফলপ্রসূ’। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশ ভবিষ্যতে সহযোগিতা চালিয়ে যাবে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লিতে সদ্য অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সময় মোদি ও পুতিনের সাক্ষাৎও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নজর কেড়েছিল। সেই বৈঠকের পরেই এবার মোদির জন্মদিনে পুতিনের এই বার্তা সামনে এল। ফলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে। মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে, যেখানে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার কথা রয়েছে। ভারত ও চিনের মতো বড় ক্রেতা দেশগুলি এর আওতায় পড়তে পারে। তবে শুল্ক আরোপ এখনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়নি; বিলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই বিল নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রুশ তেলের আমদানি ঘিরে ওয়াশিংটনের চাপ যে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বিশেষ তাৎপর্য পাচ্ছে। তবে পুতিনের জন্মদিনের বার্তাকে সরাসরি কোনও নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ঘোষণা হিসেবে দেখার আগে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

পুতিনের বার্তায় মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা এবং ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা উঠে আসা অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে একই সময়ে রুশ জ্বালানি কেনা নিয়ে আমেরিকার নতুন চাপ তৈরি হওয়ায় এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলাদা করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে দিল্লি-মস্কো সম্পর্ক এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের আলোচনায় এই সমীকরণের কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন