প্রতীক-নাম হারানোর পর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি মমতা শিবিরের, বাড়ছে চাপ

তৃণমূলের পুরনো নাম ও জোড়া ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহারে কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার পর আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে মমতা শিবির। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হবে কি?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শিবিরে। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে প্রতীক-বিতর্ক নিয়ে শীর্ষ আদালতে নতুন মামলা দায়েরের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘All India Trinamool Congress’ নাম এবং দলের প্রচলিত ‘Flowers and Grass’ বা জোড়া ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহারে দুই গোষ্ঠীকেই নিষেধ করে। কমিশনের বক্তব্য, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন। কিন্তু সামনে উপনির্বাচন থাকায় আপাতত দুই গোষ্ঠীর জন্য আলাদা নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুক্রবার সেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার পরবর্তী ধাপও স্পষ্ট হয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী পেয়েছে ‘Mamata All India Trinamool Congress’ নাম এবং ‘Football Player’ প্রতীক। অন্য গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘Democratic Trinamool Congress’ নাম এবং ‘Envelope’ প্রতীক। এই ব্যবস্থা আপাতত ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত নাম ও প্রতীক ব্যবহার থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি কমিশনের সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রের জন্য ‘কালো দিন’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

তবে প্রতীক বিতর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মমতা শিবিরের নতুন মামলা ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে—এমন তথ্য এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। টিভি৯ বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতায় আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।

এরই মধ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আর একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়েছে। মমতা শিবিরের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay) ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ওই তালিকায় রয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এবং আরও কয়েকজন বিধায়ক।

এই মামলার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয়ও ১০ জন বিধায়ককে নোটিস দিয়েছে। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিধানসভা ও সুপ্রিম কোর্ট—একাধিক সাংবিধানিক মঞ্চে গড়িয়েছে।

প্রতীক নিয়ে মূল বিরোধের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবশ্য এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। কমিশন জানিয়েছে, দুই পক্ষই নিজেদেরকে আসল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে এবং সেই দাবির পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রয়োজন। উপনির্বাচনের সময়সীমার কথা মাথায় রেখে আপাতত পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনায় প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির বলা হলেও নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী আদেশে সেই গোষ্ঠীকে অরূপ রায় (Arup Roy)-নেতৃত্বাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই প্রতীক সংক্রান্ত খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি উল্লেখ করা জরুরি।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায়, সেটিই এখন নজরে। মমতা শিবির সুপ্রিম কোর্টে নতুন আবেদন করে কি না, করলে কোন যুক্তিতে কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং শীর্ষ আদালত বিষয়টি শুনতে রাজি হয় কি না—তার উপর পরবর্তী আইনি পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল, প্রতীক-নাম বিতর্কে কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে এবং একইসঙ্গে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অন্য একটি মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন