ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের আগে তিন দিনের সফরে ভারতে এসে পৌঁছলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। শুক্রবার ভোরে নয়াদিল্লিতে তাঁর বিমান অবতরণের পর রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ। সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন পুতিন। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো নিয়েই আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের মাটিতে এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসবে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠক। রাশিয়া ও চিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়াও একাধিক দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এতে যোগ দেবেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে এবারের সম্মেলন।
শুক্রবার সকালেই দিল্লিতে পৌঁছন পুতিন। বিমানবাহিনীর পালাম ঘাঁটিতে তাঁকে এবং তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানো হয়। সম্মেলনের অন্য অতিথিদের তুলনায় এক দিন আগেই ভারতে এলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এর ফলে মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য আলাদা সময়ও পাওয়া যাচ্ছে।
দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।
এর আগে গত ৩১ অগস্ট কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (Shanghai Cooperation Organisation) বা এসসিও-র শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল পুতিনের। সেই আলোচনায় দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ব্রিকসেও ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
বিশকেকের বৈঠকের পরই মোদী জানিয়েছিলেন, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনকে স্বাগত জানানোর জন্য ভারত অপেক্ষা করছে। সেই সফর এবার বাস্তবায়িত হয়েছে। দুই নেতার ধারাবাহিক বৈঠককে ভারত-রাশিয়া ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ব্রিকস সম্মেলন ঘিরেও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনের আগে তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রপ্রধানেরা যখন এক মঞ্চে মিলিত হচ্ছেন, তখন বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে বলে তিনি আশাবাদী। বিশ্বকল্যাণের বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনের আবহ অবশ্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনটি সম্প্রসারিত হওয়ার পর সদস্যদের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যও বেড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলতি পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহের উপর তার প্রভাব নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করা এবারের সম্মেলনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরুর আগেই পুতিনের দিল্লি সফর এবং মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পুরনো সমীকরণ আরও মজবুত করার বার্তা, অন্যদিকে ব্রিকসের মঞ্চে পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা—দুই দিক থেকেই শুক্রবারের মোদী-পুতিন বৈঠকের দিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।



