দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন সামনে, কিন্তু প্রার্থী বাছাই নিয়েই জট কাটছে না বামফ্রন্টের। নন্দীগ্রাম আসন নিয়ে শরিকদের মধ্যে সমঝোতা হলেও রেজিনগরকে ঘিরে সিপিএম ও আরএসপির টানাপড়েনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বাম নেতৃত্ব। এদিনের বৈঠক কার্যত নিষ্ফলা হওয়ায় বৃহস্পতিবার ফের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। শরিকদের একাংশের মতে, বৈঠকে বিমান বসুর (Biman Bose) অনুপস্থিতিও সিদ্ধান্ত আটকে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার প্রার্থী নিয়ে আলোচনায় বসেছিল রাজ্য বামফ্রন্ট। দুই কেন্দ্রেই কোন শরিক দল প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে আগে থেকেই মতপার্থক্য ছিল। নন্দীগ্রাম নিয়ে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার রাস্তা খুললেও রেজিনগরেই আটকে যায় আসন সমঝোতা।
নন্দীগ্রাম আসনটি এবার কোনওভাবেই ছাড়তে চাইছে না সিপিআই (CPI)। গত বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের হয়ে এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল দলটি। পরে বড় শরিক সিপিএম (CPIM) সেখানে আইএসএফকে (ISF) সমর্থন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার নিজেদের দাবি থেকে সরতে নারাজ সিপিআই। ফলে নন্দীগ্রাম নিয়ে তাদের অবস্থান বেশ স্পষ্ট।
সমস্যা তৈরি হয়েছে রেজিনগরকে ঘিরে। এই কেন্দ্রে সংগঠন তুলনামূলক ভাবে দুর্বল হলেও দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি ধরে রেখেছে আরএসপি (RSP)। সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে অবশ্য রেজিনগরে বামফ্রন্টের হয়ে লড়েছে সিপিএম। এবার পুরনো এই আসনটি ফের নিজেদের দখলে নিতে চাইছে আরএসপি।
বুধবারের বৈঠকে সেই দাবিই জোরালো ভাবে তুলে ধরেন আরএসপির প্রতিনিধিরা বলে বামফ্রন্ট সূত্রের খবর। তাঁদের বক্তব্য, রেজিনগরে সংগঠন রয়েছে এবং অতীতে এই কেন্দ্রে দলের প্রার্থী দেওয়ার নজিরও আছে। তাই এবার শরিক হিসেবে আসনটি তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক—এমনই দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রেজিনগর ছাড়তে নারাজ সিপিএমও। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর এবারও আসনটি নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছে রাজ্যের বৃহত্তম বাম শরিক। ফলে আরএসপির দাবি এবং সিপিএমের অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা হয়নি।
এই টানাপড়েনের জেরেই বুধবারের বৈঠক থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেরোয়নি। শুধু রেজিনগরের প্রার্থী নয়, দুই কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকাও আনুষ্ঠানিক ভাবে চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার ফের বাম নেতৃত্ব আলোচনায় বসবে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে রেজিনগর নিয়ে সিপিএম ও আরএসপির বিরোধ মেটানোর চেষ্টা হতে পারে।
এদিকে, বামফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিমান বসুর অনুপস্থিতি নিয়েও শরিকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। শরিকদের একাংশ মনে করছে, তাঁর উপস্থিতি থাকলে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে আরও দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হতে পারত। এখন নজর বৃহস্পতিবারের বৈঠকের দিকে—নন্দীগ্রাম নিয়ে জট কাটলেও রেজিনগরে শেষ পর্যন্ত কোন শরিকের প্রার্থীকে বেছে নেয় বামফ্রন্ট, সেটাই বড় প্রশ্ন।



