গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে পুনের কয়েকটি থানা এলাকায় টানা ১৩ দিন মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ ঘিরে বম্বে হাইকোর্টে উঠল একাধিক প্রশ্ন। ৫৮ জন মদ ব্যবসায়ীর করা মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী (Mahesh Chandra Tripathi)-র নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, নিয়মিত মদ্যপায়ীদের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সময় মদ না পাওয়া স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি শুধুমাত্র পুনের কয়েকটি এলাকাকেই কেন বেছে নেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন চেয়েছে আদালত।
মহারাষ্ট্রে এ বছর গণেশ চতুর্থী উৎসব শুরু হচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উৎসবের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুনের জেলাশাসক ৩ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশ জারি করেন।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী, খাড়াক, বিশ্রামবৌগ এবং ফরাসখানা থানা এলাকায় ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, উৎসবের সময়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।
জেলাশাসকের এই নির্দেশের বিরোধিতা করে ৬ সেপ্টেম্বর বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই তিন থানা এলাকার ৫৮ জন মদ ব্যবসায়ী। তাঁদের বক্তব্য, প্রতি বছর গণেশ চতুর্থীর শেষ দিনে মদের দোকান বন্ধ থাকে। কিন্তু এবার একটানা ১৩ দিন দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে তাঁদের ব্যবসায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতি হবে।
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর সেই মামলার শুনানি হয়। জেলাশাসকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কেদার ডিগে। তাঁর যুক্তি, উৎসবের সময়ে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব জেলাশাসকের, তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানান তিনি।
তবে প্রশাসনের এই যুক্তি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অ্যাডভেট সেথনা (Justice Advait Sethna) জানতে চান, শুধু পুনে জেলার ক্ষেত্রেই কেন এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হল।
আদালতের প্রশ্ন ছিল, “রাজ্যের অন্য কোনও জেলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে না?” অর্থাৎ উৎসবের সময় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা যদি যুক্তি হয়, তাহলে শুধুমাত্র পুনের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা কেন—সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
এরপর আরও সরাসরি প্রশ্ন করে আদালত। বিচারপতিদের বক্তব্য, যাঁরা মদ পান করেন, তাঁদের প্রত্যেকেই যে মদ খেয়ে মাতলামি করবেন বা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি করবেন, এমন আশঙ্কার ভিত্তি কী? কোন যুক্তিতে আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে পুনেকেই বেছে নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চায় বেঞ্চ।
এই পর্যায়েই আদালতের তরফে নিয়মিত মদ্যপায়ীদের প্রসঙ্গ উঠে আসে। টানা ১৩ দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলে ‘হ্যাবিচুয়াল ড্রিঙ্কার’ বা অভ্যাসগত মদ্যপায়ীদের শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করে আদালত।
মামলাটি তাই শুধু মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা এবং একই সঙ্গে নিয়মিত মদ্যপায়ীদের স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য প্রভাব—সবকটি বিষয়ই শুনানিতে উঠে এসেছে। এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।



