গান্ধীকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখে ‘রেহাই’! ধর্ষকের সাজা কমিয়ে ১২ বছর করল বম্বে হাই কোর্ট!

পকসো দোষীর দোষসিদ্ধি বহাল রেখে সাজা কমাল বম্বে হাই কোর্ট। কারাবাসে সংস্কারমূলক আচরণ ও গান্ধীকে নিয়ে প্রবন্ধ লেখার ভিত্তিতে আজীবন কারাদণ্ড কমে ১২ বছর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পকসো মামলায় দোষী সাব্যস্ত এক যুবকের আজীবন কারাদণ্ড কমিয়ে ১২ বছর করল বোম্বে হাই কোর্ট। নিম্ন আদালতের দোষসিদ্ধি বহাল রেখেই শাস্তির মেয়াদ কমানোর নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত—কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কারাবাসে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তের ‘সংস্কারমূলক আচরণ’, একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং মহাত্মা গান্ধী-কে নিয়ে প্রবন্ধ লেখার মতো কর্মকাণ্ড।

মহারাষ্ট্রের ঘটকোপর চওলের বাসিন্দা ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতিবেশীর পাঁচ বছরের কন্যাকে যৌন নিপীড়ন। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারির পর চার বছর ধরে বিচার চলে পকসো আদালতে। ২০২০ সালে বিচারক তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। উচ্চ আদালতে আপিলের শুনানিতে বলা হয়—দোষসিদ্ধিতে কোনও ত্রুটি নেই, তবে শাস্তির মেয়াদ পুনর্বিবেচনার অবকাশ রয়েছে।

ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষ জানায়, কারাবাসে থাকাকালীন অভিযুক্ত কোনও শৃঙ্খলাভঙ্গ করেননি। বরং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন। পুণের তিলক মহারাষ্ট্র বিদ্যাপীঠ থেকে গ্রন্থসমালোচনার শংসাপত্র, মুম্বইয়ের রামচন্দ্র প্রতিষ্ঠানে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি এবং সর্বোদয় মণ্ডলের উদ্যোগে গান্ধীর বিচার ও চিন্তাধারা নিয়ে লেখার শংসাপত্র আদালতের সামনে পেশ করা হয়। ওই পরীক্ষায় তিনি সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন বলেও জানানো হয়।

বিচারপতি সারং কোতওয়াল এবং বিচারপতি সন্দেশ পাটিলের-এর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, অভিযুক্ত একবারও জামিন পাননি এবং কোভিড পর্বেও জেলেই ছিলেন। ইতিমধ্যে প্রায় ন’ বছর কারাবাসে কেটে গিয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ন্যূনতম দশ বছরের সাজা প্রযোজ্য হলেও, আদালতের মতে ১২ বছরের কারাদণ্ডেই শাস্তির উদ্দেশ্য পূরণ হবে। ফলে আজীবন কারাদণ্ডের বদলে ১২ বছরের কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়—আর তিন বছর পর মুক্তির পথ খুলে গেল দোষীর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত