টলিউডের অন্দরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ—শুটিং বন্ধ করে দেওয়া, ছবি মুক্তিতে বাধা, ফেডারেশনের চাপ, এমনকি শিল্পী বয়কটের রাজনীতি। সরকার বদলের পর এবার সেই ‘অরাজকতা’ নিয়েই কড়া অবস্থান নিল নতুন সরকার। বুধবার নবান্নে টলিউডের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকের পর স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—টলিউডে আর কোনও ‘দাদাগিরি’ বা ‘তোলাবাজি’ বরদাস্ত করা হবে না।
গত কয়েক বছরে বাংলা বিনোদন জগতে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। কখনও কোনও ছবির মুক্তি আটকে যাওয়ার অভিযোগ, কখনও আবার শুটিং বন্ধ করে দেওয়ার বিতর্ক। বারবার অভিযোগ উঠেছে ফেডারেশনের একাংশ এবং তথাকথিত ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে। একাধিক শিল্পীও প্রকাশ্যে এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।


এই আবহেই বুধবার নবান্নে বিশেষ বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে ছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়। পাপিয়া অধিকারীরও থাকার কথা ছিল। কিন্তু জানা গিয়েছে, বিধানসভায় অন্য কাজ থাকায় এই বৈঠকে তিনি থাকতে পারেননি।
বৈঠকের পর রুদ্রনীল জানান, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিক এবং সচিবদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে।
রুদ্রনীলের কথায়, “কিছু অশুভ শক্তি সংস্কৃতিজগতে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আগে যেমন ভয়ঙ্কর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এখনও সেই একই চক্রান্ত চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।”


তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই দাদাগিরি বা তোলাবাজি চলবে না। যোগ্য শিল্পীরাই কাজের সুযোগ পাবেন। নতুন সরকার সেই পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, টলিউডের নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেশনকেন্দ্রিক ক্ষমতার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই বৈঠক।







