রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব এবার স্পষ্ট টলিউডে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে স্টুডিয়োপাড়ার পরিবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে খবর। বুধবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে হবে। কোনও একাধিপত্য বরদাস্ত করা হবে না।”
সূত্রের খবর, টলিউডে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং শিল্পীদের জন্য সুস্থ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতেই চার তারকা বিধায়ক— রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারীর উপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকারের লক্ষ্য, স্টুডিয়োপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পক্ষপাতিত্ব এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ভেঙে একটি স্বচ্ছ সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো তৈরি করা।


দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডের অন্দরমহলে অভিযোগ ছিল, গুটিকয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তি কার্যত ইন্ডাস্ট্রির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছেন। কাজের সুযোগ, শিল্পী নির্বাচন থেকে শুরু করে সংগঠনের সিদ্ধান্ত— সব ক্ষেত্রেই একাংশের আধিপত্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল। সেই আবহেই এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল নতুন সরকার।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও শিল্পী বা কলাকুশলী যেন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চাপে কাজ হারান না। কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপও করা হবে। শিল্পীদের নিরাপত্তা, প্রযোজকদের স্বার্থরক্ষা এবং নতুন প্রতিভাদের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে টলিউডে একাধিক বিতর্ক, সংগঠন নিয়ে ক্ষোভ এবং শিল্পীদের প্রকাশ্য অভিযোগের জেরে স্টুডিয়োপাড়ার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেই পরিস্থিতিতেই নতুন কমিটির মাধ্যমে ‘হারানো গরিমা’ ফিরিয়ে আনার বার্তা দিয়েছে সরকার।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, টলিউডে এই প্রশাসনিক সক্রিয়তা শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র নয়, ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। কারণ বাংলা চলচ্চিত্র জগত বরাবরই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এখন দেখার, নতুন দায়িত্ব পাওয়া এই চার তারকা বিধায়ক টলিউডের অন্দরের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি কতটা সামাল দিতে পারেন এবং সত্যিই স্টুডিয়োপাড়ায় স্বচ্ছ ও ভয়মুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না।







