ডায়মন্ড হারবারে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একসময় যা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অঘোষিত রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই এলাকাতেই এবার সরকারের প্রথম বড় কর্মসূচি বিজেপির। আর তা ঘিরেই জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সফর শুধুই প্রশাসনিক নয়, বরং ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বিজেপির কৌশলগত শক্তিপ্রদর্শনও হতে পারে।
৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের পর ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক ব্যস্ততায় ডুবে ছিলেন তিনি। এবার সেই ব্যস্ততার মাঝেই প্রথম জেলা সফরের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ডায়মন্ড হারবারকে। নবান্ন সূত্রে খবর, শনিবার সেখানে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি বিজেপির একটি কর্মীসভাতেও যোগ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।


২০১৪ সাল থেকে টানা তিনবার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয় পেলেও এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেই ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই কারণেই এবার ডায়মন্ড হারবারে বিশেষ নজর দিয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর সফর থেকে স্থানীয় উন্নয়ন, নতুন প্রকল্প বা প্রশাসনিক ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনও। আগামী ২১ মে সেখানে ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফায় ভোট হলেও পরে নির্বাচন কমিশন তা বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে এলাকায় শাসক ও বিরোধী— দুই পক্ষই জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপি মনে করছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে।
ফলতা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানকে ঘিরে ভোটের সময় একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবেও আনা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয়পাল সিংহকে। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার পক্ষে এলাকায় ইতিবাচক হাওয়া তৈরি হয়েছে বলেও দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।


ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কয়েকটি বিধানসভায় এবারে বিজেপির ফল তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে। সাতগাছিয়া কেন্দ্রে বিজেপির অগ্নিশ্বর নস্কর জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সোমাশ্রী বেতালকে হারিয়ে। সেই ফলাফলও বিজেপিকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, শুভেন্দুর এই সফর প্রশাসনিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভিষেকের শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।







