ভোটের পর রাজ্যে হিংসা ও আতঙ্কের অভিযোগের মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট—কোনও নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাড়ি বা ব্যবসা থেকে উৎখাত করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আক্রান্তদের নিরাপদে পুনর্বাসন নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। এই নির্দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে নতুন মাত্রা যোগ হল।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি বা দোকান ছাড়তে বাধ্য হন, তবে তাঁকে দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে পাঁচ সপ্তাহ পরে। তার আগে সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সেই হলফনামার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মামলাটি বৃহত্তর, পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হবে কি না।
‘রাজনৈতিক পরিচয়ে উৎখাত নয়’, মমতার ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় কড়া বার্তা হাই কোর্টের

বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে নিজে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি আইনজীবী হিসেবেও আদালতে সওয়াল করেন। শুনানির সময় তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী, শিশু এবং সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, বহু ক্ষেত্রে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
আদালতের অনুমতি নিয়ে এই অভিযোগগুলি অতিরিক্ত হলফনামায় যুক্ত করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “এটা কোনও বুলডোজার রাজ্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে রক্ষা করুন।”
এই মামলায় সওয়ালকারী আইনজীবীদের তালিকায় ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। আদালতের নির্দেশের পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিরোধীদের আক্রমণের বিরুদ্ধেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ সেই অভিযোগের গুরুত্বকেই তুলে ধরেছে।



