মেসি-কাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত গ্রেফতারির হাত থেকে স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার পাশাপাশি একাধিক শর্তও মানতে হবে তাঁকে।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ কোনও নোটিস পাঠালে অরূপ বিশ্বাসকে হাজিরা দিতে হবে। তবে সেই ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিয়ে জানাতে হবে তদন্তকারী সংস্থাকে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে নিজের পাসপোর্ট জমা দিতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে যুবভারতীতে আয়োজিত লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ। আদালত মন্তব্য করে, বিপুল সংখ্যক দর্শক টিকিট কেটে অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসিকে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে হয়েছিল। তবে দেশের অন্য শহরগুলিতে একই ধরনের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও কলকাতায় কেন বিশৃঙ্খলা তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শুনানির সময় আদালত একাধিক প্রশ্নও তোলে। বিচারপতি জানতে চান, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক কী ছিল এবং তিনি এতটা ঘনিষ্ঠভাবে কেন অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি কলকাতাতেই কেন নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা তৈরি হল, সেই প্রশ্নও উঠে আসে আদালতের পর্যবেক্ষণে।
মামলার শুনানিতে আয়োজক শতদ্রু দত্তের আইনজীবী দাবি করেন, অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ৭০ হাজার টিকিট ছাপানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস একাই প্রায় ২২ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন এবং তার একটি বড় অংশ বিভিন্ন ক্লাবের কাছে বিতরণ বা বিক্রি করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে আদালত বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটকে ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে। কেন অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করা গেল না এবং কোথায় কোথায় গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, যুবভারতীতে লিওনেল মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে আয়োজক শতদ্রু দত্ত কয়েক দিন আগে অরূপ বিশ্বাস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। সেই মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
আদালতের এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচে আপাতত স্বস্তি মিললেও তদন্ত এবং অনুসন্ধানের রিপোর্টের উপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি। আগামী দিনে এই মামলায় নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।



