পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরাজয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানকে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দ। একসময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগকে সমর্থন জানিয়েছিল সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু এবার কলকাতায় এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল কিরণময়ের বক্তব্যে। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে বিরোধী শিবিরে।
সোমবার বিধানসভায় প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন সংক্রান্ত একটি বৈঠকে যোগ দিতে কলকাতায় আসেন কিরণময় নন্দ। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন এবং সেই বাস্তবতা মেনে নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভোটাররাই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কিরণময়ের কথায়, অতীতেও পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফলাফল মানতে চাননি। এবারও একই অবস্থান নিয়েছেন। যদিও তাঁর মতে, বাংলার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই হয়েছে এবং ভোটের ফল জনমতের প্রতিফলন।
সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতি আরও দাবি করেন, তাঁর দলের শীর্ষ নেতা অখিলেশ যাদব অতীতে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব রাজনৈতিক মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র একাধিক নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। অখিলেশ যাদবও সেই সময় প্রকাশ্যে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, নির্বাচনের পর কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন তিনি। সেই প্রেক্ষাপটে কিরণময় নন্দের এই মন্তব্যকে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরে পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজেরও প্রশংসা করেন কিরণময়। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সমস্যার পর নতুন সরকার ইতিবাচক কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে কিরণময়ের এই মন্তব্য সমাজবাদী পার্টির আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্যের খবরও সামনে এসেছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে কতটা দলের সরকারি অবস্থান হিসেবে দেখা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের অন্যতম শরিক দলের এক শীর্ষ নেতার মুখে এমন মন্তব্য ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর জাতীয় রাজনীতিতেও তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন কিরণময় নন্দের এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।



