তৃণমূল কি ফের কংগ্রেসে? ‘অখণ্ড কংগ্রেস’ কি রাহুলের লক্ষ্য? জোর জল্পনা রাজধানীতে

তৃণমূল ও শরদ পওয়ার শিবির কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হতে আগ্রহী বলে দাবি নানা পাটোলের। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব এখনও সেই জল্পনা মানতে নারাজ।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে কি আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন? ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই মহারাষ্ট্র কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলের এক মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর দাবি, একাধিক আঞ্চলিক দল ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র নামও রয়েছে।

নানা পাটোলের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ভোটের বিভাজন রুখতে সমমনস্ক রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার চিন্তাভাবনা চলছে। তাঁর মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের জন্য কংগ্রেসকে কেন্দ্র করেই নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ একসময় কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজনৈতিক দল গড়েছিলেন। ফলে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের জল্পনা স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

একই সঙ্গে শরদ পওয়ারের দল নিয়েও মন্তব্য করেছেন পাটোলে। তাঁর দাবি, অতীতে কংগ্রেসের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা এখনও হয়নি।

সম্প্রতি শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের নেতা সঞ্জয় রাউতও মন্তব্য করেছিলেন যে, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলির ফের মূল দলে ফিরে আসার কথা ভাবা উচিত। সেই মন্তব্যের পরই নানা পাটোলের বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থান কিছুটা আলাদা। দলের একাংশের দাবি, তৃণমূল বা অন্য কোনও আঞ্চলিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে বর্তমানে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে না। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও সম্প্রতি এই ধরনের জল্পনাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে নানা আলোচনা চললেও বাস্তবে কোনও দল কংগ্রেসে মিশে যাবে কি না, তা এখনও অনেক দূরের বিষয়। কারণ এই ধরনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সাংগঠনিক, রাজনৈতিক এবং আঞ্চলিক স্বার্থের জটিল সমীকরণ।

তবে নানা পাটোলের মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, ২০২৯ সালের রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে রেখে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এখন দেখার, এই জল্পনা রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নেয় নাকি শুধুই আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর