বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে ৬৩৫ কোটির নয়ছয়! তদন্তের ঘোষণা শুভেন্দুর, নিশানায় মমতা সরকার

বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের নামে ৬৩৫ কোটি টাকা খরচের অভিযোগ তুলে তদন্তের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ নিয়েও দিলেন বড় বার্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে আয়োজিত এই শিল্প সম্মেলনের ব্যয় নিয়ে এবার সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের নামে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ খরচ হয়েছে, যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় সরকারের এক দশকের সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করতে গিয়ে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ কীভাবে এবং কোন খাতে খরচ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বছরের পর বছর শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বাংলায় বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলেই তাঁর দাবি।

এদিন শুভেন্দুর বক্তব্যে ফের উঠে আসে ফলতার বহুচর্চিত ‘পুষ্পা’ প্রসঙ্গও। তিনি স্পষ্ট জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আসবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে শুধুমাত্র অতীতের হিসাব খতিয়ে দেখাই নয়, ভবিষ্যতের শিল্পোন্নয়ন নিয়েও আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য শিল্প ও বিনিয়োগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

শুভেন্দু জানান, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিল্প প্রকল্পের প্রস্তাব সরকারের কাছে এসেছে। সেই প্রস্তাবগুলি মূল্যায়নের জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তাঁর মতে, রাজ্যে শিল্পের বিকাশ ঘটলে বেকারত্ব কমবে, পরিযায়ী শ্রমিকদের একাংশ ফিরে আসবেন এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। পাশাপাশি অবকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও সংস্থা বা শিল্পপতি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখালে তাঁদের উদ্দেশ্য, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃত শিল্পায়নের স্বার্থেই এই যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

ফলে একদিকে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের ব্যয় নিয়ে তদন্তের ঘোষণা, অন্যদিকে নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ টানার পরিকল্পনা— এই দুই বিষয়ই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর