দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসি কাণ্ডে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় প্রায় সওয়া তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি বেরিয়ে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা নিয়েই এখন কৌতূহল তুঙ্গে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন অরূপ বিশ্বাস। মেসি সফর সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, গোটা জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে।
তদন্ত শেষে তাঁকে আগামী ২২ জুন আবার থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে এই পর্ব শেষ হলেও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে পরপর তিনবার পুলিশের নোটিস সত্ত্বেও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। সেই কারণে তাঁকে ঘিরে গ্রেপ্তারির জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। এমনকি তিনি কোথায় রয়েছেন, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছিল রাজনৈতিক মহলে।
মেসি কাণ্ডের সূত্রপাত গত ডিসেম্বর মাসে। মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত অভিযোগ করেন, সফরের জন্য ছাপানো প্রায় ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে ২২ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাস নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন এবং সেগুলির একাংশ অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল। পাশাপাশি মেসির নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়েও একাধিক অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই থানায় মামলা দায়ের হয় এবং তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে একাধিকবার অরূপ বিশ্বাসকে তলব করা হলেও তিনি দীর্ঘদিন হাজিরা দেননি।
যদিও এই মামলায় ইতিমধ্যেই হাই কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
সেই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারের হাজিরা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর ২২ জুনের দিকে, কারণ সেদিন ফের তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হবে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে। মেসি কাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।



