লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিতর্কের আঁচ এবার পৌঁছে গেল আদালতে। মেসি অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা মামলায় নাম জড়ানোর পর বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এই পদক্ষেপ ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা—তবে কি গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছেন তিনি?
সোমবার আদালতের দ্বারস্থ হন অরূপ বিশ্বাস। সম্প্রতি মেসি-সংক্রান্ত বিতর্কিত অনুষ্ঠানের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মামলায় একাধিক গুরুতর অভিযোগের ধারা যুক্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।


এই আবহেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে অনুষ্ঠান আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি ও মানহানির অভিযোগে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করা হবে। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় বহু মানুষের ক্ষতি হয়েছে এবং তার জন্য দায়ীদের আইনের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ ডিসেম্বর, যখন কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বহু দর্শকের অভিযোগ ছিল, টিকিট কেটেও তাঁরা প্রত্যাশিতভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
সেই ঘটনায় প্রথমে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন এবং অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলার জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করেন।


শতদ্রুর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার এবং টিকিট বণ্টন নিয়ে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি অতিরিক্ত সংখ্যক ব্যক্তিকে মাঠে ঢোকানোর জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অরূপ বিশ্বাসের তরফে এখনও কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
মামলায় তোলাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখানো এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক অভিযোগ যুক্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতে আগাম জামিনের আবেদন শুধুমাত্র আইনি সতর্কতা নাকি সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের আশঙ্কা—তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির উপরই। তবে মেসি-কাণ্ড যে আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
এখন নজর আদালতের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ এই মামলার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে আরও বহু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



