দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থানাকে ঘিরে উত্তেজনার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়। জাহাঙ্গির খানকে থানার হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টার অভিযোগে এবার তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে নতুন মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবারের ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, থানাকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং জাহাঙ্গির খানকে ছাড়িয়ে আনার প্রচেষ্টা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। অভিযোগ, ঘটনার একদিন আগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সমর্থকদের সংগঠিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, নির্দিষ্ট একটি স্থানে লোক জড়ো করে পরে থানার দিকে এগিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে। কারা এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল, কোথা থেকে নির্দেশ আসছিল এবং বিক্ষোভ সংগঠনের পেছনে আর কারা সক্রিয় ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বুধবার ফলতায় এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইন ভাঙার ক্ষেত্রে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকেও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলতা থানাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের হওয়ায় রেজিনা বিবির আইনি জটিলতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনাকে ঘিরে বিস্তৃত তদন্ত চালাচ্ছে। আগামী দিনে আরও গ্রেপ্তার বা নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ফলতা কাণ্ড ঘিরে নজর এখন তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ের দিকে।



