মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভাকে ঘিরে বুধবার নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ ও ঘেরাওয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পুরপ্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষকে উদ্ধার করে জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার পুরসভা চত্বরে পুরপ্রধানকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এলাকার একাংশের বাসিন্দারা। অভিযোগ ও ক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে তাঁকে ঘেরাও করে রাখা হয় বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় গভীর রাতে পুরসভা ভবন থেকে প্রসেনজিৎ ঘোষকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে জিয়াগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার শচীন মক্কর জানিয়েছেন, পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযোগের প্রকৃতি বা কোন ধারায় তদন্ত এগোবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
রাজনৈতিকভাবেও ঘটনাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই আবহে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।



