ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, স্পিকারের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী সিলমোহর হাইকোর্টের

বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে বিতর্কে স্পিকারের সিদ্ধান্তে আপাতত হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি বহাল থাকল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে চলা রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তে আপাতত হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে আদালত। ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে বলে স্পষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে স্পিকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেওয়ার কোনও কারণ দেখছে না। সেই সঙ্গে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের করা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদনও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, মূল মামলার শুনানি এখনও শেষ হয়নি। মামলাটি বহাল থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা ও পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ২৮ জুলাই।

আদালতের এই নির্দেশ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ঠিক যেদিন বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে, তার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে জটিলতার মাঝে এই রায় সামনে এল।

মামলার আগের পর্যায়ে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল আদালতে। শুনানির সময় বিচারপতি জানতে চেয়েছিলেন, বিধায়কদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন কার পক্ষে রয়েছে, তা স্পিকার কীভাবে নির্ধারণ করলেন। সেই প্রশ্ন ঘিরেই আইনি বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছিল।

স্পিকারের পক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তৃণমূলের তরফে জমা দেওয়া প্রাথমিক চিঠিতে বিধায়ক দলের বৈঠকের কোনও আনুষ্ঠানিক বিবরণ ছিল না। সেই কারণেই স্পিকার বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং প্রাসঙ্গিক নথি জমা দিতে বলেন। পরে কিছু বিধায়ক অভিযোগ করেন, তাঁদের নামে থাকা স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, স্পিকারের কাছে আরেকটি চিঠি জমা পড়ে যেখানে দাবি করা হয়, বিরোধী ব্লকের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। সেই দাবি খতিয়ে দেখেই তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এই বিরোধের সূত্রপাত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। বিরোধী শিবিরের তরফে প্রথমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব জমা পড়ে। পাশাপাশি উপ-বিরোধী দলনেতা এবং চিফ হুইপ পদেও নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পরে একাংশ বিধায়ক সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে পৃথক দাবি জানায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে আনে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন কিছু বিধায়ক অভিযোগ করেন যে তাঁদের স্বাক্ষর অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে। সেই বিতর্কই শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথ তৈরি করে।

আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতার পদে বহাল থাকছেন। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও বাকি। ফলে জুলাইয়ের পরবর্তী শুনানির দিকে এখন রাজনৈতিক মহল এবং বিধানসভার নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর