আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ২১ জুনের যোগ দিবসের কর্মসূচিতে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। কেউ অনুষ্ঠানে অংশ না নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও আদালতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেই উপলক্ষে ১৪ জুন একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আবাসন, রেড রোড এবং নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানস্থলে সরকারি কর্মীদের উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক, আউটসোর্সড এবং সম্মানিকভিত্তিক কর্মীদেরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর জেরে সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে, এই ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কি বাধ্যতামূলক করা যায়?
এই বিষয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয় সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সংগঠনের দাবি ছিল, যোগ দিবসের মতো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হওয়া উচিত এবং কোনও কর্মীকে বাধ্য করা উচিত নয়।
মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যের কাছে জানতে চায়, সরকারি কর্মীদের জন্য এই কর্মসূচিতে উপস্থিতি কেন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আদালত রাজ্যকে তাদের অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেয়।
সেই নির্দেশের পর রাজ্য সরকার আদালতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কারও জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কোনও কর্মী উপস্থিত না থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অন্য কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
রাজ্যের এই অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর সরকারি কর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং রাজ্যের জবাব যোগ দিবসের কর্মসূচিকে ঘিরে চলা বিতর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এখন নজর ২১ জুনের অনুষ্ঠানের দিকে। কারণ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বড় আকারে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখানে কত সংখ্যক সরকারি কর্মী স্বেচ্ছায় অংশ নেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।



