পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ২,৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করল ITC Limited। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, হোটেল, কাগজ শিল্প, সৌরবিদ্যুৎ এবং প্রযুক্তি খাতে একাধিক প্রকল্পে এই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করা হবে। ফলে কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করছে শিল্পমহল।
বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ITC-র চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরী। প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে সংস্থার ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প বিনিয়োগ এবং পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ITC-র ২০টি উৎপাদন কেন্দ্র এবং ৫টি হোটেল রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৭টি নতুন হোটেল প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পর্যটন শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দার্জিলিং, সুন্দরবন এবং কার্শিয়াঙে বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রিক এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু পর্যটন নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ITC। পুরুলিয়ায় একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হুগলি জেলায় নতুন কাগজ শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
প্রযুক্তি খাতেও বড় উদ্যোগ নিচ্ছে সংস্থাটি। রাজারহাটে অবস্থিত ITC Green Centre-এ প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ‘Global AI Centre of Excellence’ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তি গবেষণার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
সংস্থার দাবি, জমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই দ্রুত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন শুরু হবে। শিল্প, পর্যটন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং প্রযুক্তি— চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



