উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির তাণ্ডব! ধসে বন্ধ ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, বালাসনে ভেসে গেল দুধিয়ার সেতু

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দার্জিলিং ও সংলগ্ন এলাকা। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, বালাসন নদীর জলে ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু, ব্যাহত শিলিগুড়ি যোগাযোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উত্তরবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দার্জিলিং পাহাড় থেকে সমতল— একাধিক এলাকায় ধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং সেতু ভেসে যাওয়ার ঘটনায় বিপর্যস্ত জনজীবন। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগে, যার ফলে বহু মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অতি ভারী বর্ষণের ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে বালাসন নদীর প্রবল স্রোত দুধিয়া এলাকার অস্থায়ী সেতুটিকে সম্পূর্ণ গ্রাস করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালাসন নদীর উপর নির্মিত বিকল্প সেতুটি শুক্রবার ভোরের আগেই জলের তোড়ে ভেসে যায়। ফলে মিরিক, দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রবল বর্ষণ এবং মহানন্দা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে ধস নেমেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

খারসাংয়ের কাছে তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও সড়কের উপর একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ধস সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হলেও স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেই মহানন্দা নদীর ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়। এরপরই বালাসন নদীতে জলপ্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের উদ্বেগও বাড়তে থাকে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, দুধিয়ার মূল সেতুটি গত বছরের বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে হিম পাইপের উপর একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে খরস্রোতা বালাসন নদীর উপর তৈরি ওই বিকল্প সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। অবশেষে বর্ষার শুরুতেই সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।

আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর