রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর। সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু কমিশন গঠনই নয়, কবে থেকে নতুন বেতন কাঠামো চালু হতে পারে, সেই সময়সীমাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
শুধু পে কমিশন নয়, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২২ জুন রাজ্যের বাজেট পেশ হবে এবং সেই বাজেটেই সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য ডিএ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় রাজ্যের কর্মীদের ডিএ-র যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে, তা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ডিএ এবং নতুন বেতন কমিশনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। আগের সরকারের সময় এই ইস্যু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতেও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বকেয়া ডিএ ও পে কমিশন সংক্রান্ত প্রাপ্য অর্থের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই প্রায় তিন লক্ষ সরকারি কর্মীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। বাকি বিষয়গুলিও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের কাছে সপ্তম পে কমিশন চালুর সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। এখন সকলের নজর আগামী বাজেট এবং সরকারের পরবর্তী ঘোষণার দিকে, কারণ সেখানেই পরিষ্কার হতে পারে বেতন ও ডিএ বৃদ্ধির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা।



