পুজোর আগে বাংলার দুর্গোৎসবকে ঘিরে বড় সাংগঠনিক উদ্যোগ বঙ্গ বিজেপির। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে শহরের পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের অন্যতম মাধ্যম ছিল ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’। এবার তারই আবহে একেবারে নতুন একটি সংগঠন তৈরি করল বঙ্গ বিজেপি। নাম দেওয়া হয়েছে ‘দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি’। আর এই নতুন সমিতির মুখ্য উপদেষ্টা করা হয়েছে বিধায়ক তথা বিধানসভার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান রুদ্রনীল ঘোষকে।
দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের এক ছাতার তলায় এনে তাঁদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই এই নতুন সমিতির মূল লক্ষ্য বলে জানা যাচ্ছে। গণেশ চতুর্থীর দিনই সমিতির প্রথম বৈঠক হয়েছে। ফলে পুজোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই নতুন এই সংগঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও পুজো মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সমিতির প্রথম বৈঠকের আগে একটি ই-কার্ডও প্রকাশ করা হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। কার্ডে লেখা হয়েছে, শুভ গণেশ চতুর্থীর পুণ্য লগ্নে পশ্চিমবঙ্গ দুর্গাপূজা উদ্যোক্তাদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে এক অভিনব প্রয়াস। সেখানে দুর্গাপুজোর জন্য সবাইকে এক জায়গায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ই-কার্ডের নিচে মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নাম রয়েছে রুদ্রনীল ঘোষের।
এই নতুন উদ্যোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কলকাতায় ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর পাল্টা সংগঠন হিসেবেই ‘দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি’ তৈরি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি রুদ্রনীল ঘোষ।
তৃণমূল জমানায় পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’। শহরের বড় পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও সংগঠনটির ভূমিকা ছিল। সেই সময়ে তৎকালীন সরকারের একাধিক বিধায়ককে সামনে রেখেই সংগঠনটি তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।
কিন্তু ২০২৬-এর রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার পুজো কমিটিগুলির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ছবি দেখা যাচ্ছে। একাধিক পুজোর পরিচালনায় বদল এসেছে। এর আঁচ মিলেছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা পুজোর বৈঠকেও। সেই পরিস্থিতিতে রুদ্রনীল ঘোষকে মুখ্য উপদেষ্টা করে নতুন ‘দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি’ গঠন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নতুন সমিতির সঙ্গে পুরনো ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সম্পর্ক কী হবে? নতুন সংগঠন কি শুধুই পুজো উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ের একটি মঞ্চ হয়ে থাকবে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সংগঠনের জায়গাও দখল করবে? এই প্রশ্নই এখন কলকাতার পুজো মহলে ঘুরছে।
যদিও ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর পক্ষ থেকে এখনও নতুন সমিতি নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। সংগঠনের সভাপতি সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নতুন সমন্বয় সমিতির বিষয়ে তিনি এখনও কিছু জানেন না। তাই এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি।
পুজোর বাকি আর হাতে গোনা কয়েকটি দিন। ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন সংগঠন কতটা সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একইসঙ্গে শহরের বড় পুজো কমিটিগুলি নতুন এই উদ্যোগকে কতটা গ্রহণ করে, সেটাও নজরে রাখছে রাজনৈতিক মহল।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলায় এবার শুধু উৎসবের প্রস্তুতি নয়, সংগঠন এবং সমন্বয়ের রাজনীতিও নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ‘দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি’ আগামী দিনে কতটা প্রভাব তৈরি করতে পারে এবং ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর ভূমিকা কী দাঁড়ায়, পুজোর পর সেই ছবিই আরও স্পষ্ট হবে।



