পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকেই ইতিহাস ও রাজনীতির মেলবন্ধনে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুগলির তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে তিনি জানালেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটে অধিগ্রহণ করে সেখানে স্মৃতিসৌধ ও আধুনিক লাইব্রেরি গড়ে তুলবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি কলকাতায় নির্মাণ করা হবে ১২৫ ফুট উচ্চতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিশাল মূর্তি।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ডোকরার তৈরি দুর্গামূর্তি উপহার দিয়ে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং তাঁর স্মৃতিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, বরং বাংলার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেই কারণেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
তিনি জানান, আগামী ২৩ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদান দিবস এবং ৬ জুলাই তাঁর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তাঁর জন্মভিটেকে সংরক্ষণ করে সেখানে গবেষণা, পাঠচর্চা এবং ইতিহাসচর্চার কেন্দ্র হিসেবে একটি স্মৃতিসৌধ ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ছিল কলকাতায় ১২৫ ফুট উচ্চতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি নির্মাণ। রাজ্য সরকারের দাবি, এটি হবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অন্যতম বৃহত্তম উদ্যোগ এবং বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
এদিনের অনুষ্ঠানে কৃষকদের জন্যও বড় বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারকেশ্বর থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার ২৩তম কিস্তির অর্থ বিতরণের সূচনা করেন। দেশের কোটি কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার আওতায় বছরে তিনটি কিস্তিতে মোট ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পান কৃষকরা। এর আগে ২২টি কিস্তির অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার থেকে ২৩তম কিস্তির অর্থও উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের এই অনুষ্ঠান তাই শুধু রাজনৈতিক বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিরক্ষায় বৃহৎ প্রকল্পের ঘোষণা এবং কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তার সূচনা— দুই মিলিয়ে তারকেশ্বরের সভা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে।



