সুরুচি সঙ্ঘকে এলআইসির কড়া নোটিস! ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে জমি খালি না করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

এলআইসির দাবি, নিউ আলিপুরে তাদের ২১ কাঠা জমি ব্যবহার করছে সুরুচি সঙ্ঘ। ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ, না মানলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতার অন্যতম আলোচিত দুর্গাপুজো কমিটি সুরুচি সঙ্ঘকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এল। ভারতীয় জীবন বিমা নিগম (LIC) অভিযোগ করেছে, তাদের মালিকানাধীন প্রায় ২১ কাঠা জমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছে ক্লাবটি। সেই জমি দ্রুত খালি করার নির্দেশ দিয়ে এবার আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠিয়েছে এলআইসি। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি ফেরত না দিলে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এলআইসি সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ আলিপুরে অবস্থিত ওই জমি ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ খালি করতে হবে। বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেওয়ালেও নোটিস টাঙানো হয়েছে। জমি হস্তান্তর না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে সুরুচি সঙ্ঘ একটি পরিচিত নাম। প্রতি বছর তাদের থিমভিত্তিক পুজো বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী Arup Biswas এবং তাঁর ভাই Swarup Biswas। সাধারণ মানুষের কাছে পুজোটি ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর পুজো হিসেবেও পরিচিত ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, যে জমিতে বছরের পর বছর দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়েছে, সেটি আসলে এলআইসির সম্পত্তি। সংস্থার দাবি, একাধিকবার ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জমি ফেরত চাওয়া হলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এরপরই তারা থানার দ্বারস্থ হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সুরুচি সঙ্ঘ। গত কয়েক মাসে ক্লাবটিকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বিভিন্ন অভিযোগ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে ক্লাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা চলছিলই।

বিশেষ করে ক্লাবের প্রাক্তন সচিব স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্ক এবং পরবর্তী আইনি জটিলতার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর গ্রেফতারির পর ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং হোর্ডিং ছেঁড়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল।

এবার এলআইসির জমি সংক্রান্ত নোটিস পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিল। ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং আইনি লড়াই কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর শহরের দুর্গাপুজো মহল ও প্রশাসনিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর