বকখালিতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ তরুণী, তিন সপ্তাহ পর সৈকতের বালির নিচে মিলল দেহ! গ্রেপ্তার সঙ্গী যুবক

বকখালিতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন আবিয়া বিবি। তিন সপ্তাহ পর জেরায় খুনের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত যুবক, হেনরি আইল্যান্ডের কাছে বালির নিচ থেকে উদ্ধার দেহ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বকখালিতে বেড়াতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া এক তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে খোঁজ না মেলার পর পুলিশের তদন্তে সামনে আসে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। শেষ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতের বালির নিচ থেকে উদ্ধার হয় তরুণীর দেহ। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর সঙ্গী যুবককে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ মে আবিয়া বিবি নামে ওই তরুণী জিয়ারুল সর্দারের সঙ্গে বকখালিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরে জিয়ারুল বাড়ি ফিরে এলেও আবিয়ার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বকুলতলা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মোবাইলের তথ্য, গতিবিধি এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত এগোতে থাকলে সন্দেহের তির ঘুরে যায় জিয়ারুলের দিকে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের দাবি, জেরার মুখে অভিযুক্ত ভেঙে পড়ে এবং তরুণীকে খুন করার কথা স্বীকার করে। শুধু তাই নয়, দেহ কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে সেই তথ্যও তদন্তকারীদের জানায় সে। এরপর অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে হেনরি আইল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ।

সেখানে নির্দিষ্ট জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি চালিয়ে বালির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় আবিয়া বিবির দেহ। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ও মৃতার মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল এবং সেই কারণেই এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে পুলিশ এখনও সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধৃত যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ আবিয়ার পরিবার। অভিযুক্তের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতার পরিবারের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর