ময়নাগুড়ি দুর্ঘটনায় ৪ প্রাণহানি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা শুভেন্দুর

ময়নাগুড়ির এনএইচ-২৭-এ বাস ও ট্রেলারের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু, আহত ৩৯। মৃত ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ময়নাগুড়ি দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমেছে উত্তরবঙ্গে। জলপাইগুড়ি জেলার উল্লাডাবড়ি এলাকায় জাতীয় সড়কে ভয়াবহ বাস-ট্রেলার সংঘর্ষে চার যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃত ও আহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রবিবার ময়নাগুড়ির এনএইচ-২৭-এর উল্লাডাবড়ি জোড়াবাঁধ এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি ট্রেলারের সামনের চাকা বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রেলারটিকে সজোরে ধাক্কা মারে।

সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে ঘটনাস্থলেই চার যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ, প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। গুরুতর আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা এবং অপেক্ষাকৃত কম আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত আহতের চিকিৎসার ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করেছে।

ঘটনার পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মনের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের চিকিৎসা এবং উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার কারণ এবং দায় নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে। জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ময়নাগুড়ির এই দুর্ঘটনা ফের একবার সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াল। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের পরিবারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর