এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন স্বপ্না বর্মন। সেই স্বপ্না বর্মনের বাড়িতেই এবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়িতে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই হুমকি পাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর। শুক্রবার রাতে রাজগঞ্জের পুরনো বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনার পর কান্নাজড়ানো গলায় স্বপ্নার আক্ষেপ, “রাজনীতিতে আসাই ভুল ছিল।” ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে শনিবার এফআইআর দায়েরের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ায় স্বপ্না বর্মনের দুটি বাড়ি রয়েছে। একটিতে পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। অন্য পুরনো বাড়িটিতে কেউ বসবাস করতেন না। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ওই ফাঁকা বাড়িতে আগুন লাগার খবর সামনে আসে। নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন স্বপ্না। এরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। সেই সময় বাইরে প্রবল বৃষ্টি চলছিল বলে আগুন বাড়ির বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। দমকল সূত্রে খবর, ঘরের ভিতরে রাখা কিছু জ্বালানি কাঠ ও কাগজপত্রে আগুন লেগেছিল। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি মৌমিন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাড়িটিতে কেউ থাকতেন না। কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন স্বপ্না বর্মন। তাঁর অভিযোগ, ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তাঁর পরিবারকে লাগাতার ভয় দেখানো হচ্ছিল। বিশেষ করে তাঁর দুই দাদাকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হত বলেও দাবি করেছেন তিনি। এমনকী তাঁকেও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এশিয়াডে সোনাজয়ী এই অ্যাথলিট।


স্বপ্নার কথায়, “আমি ভোটে হারার পর রাতারাতি অনেক মানুষ বদলে গিয়েছে। যারা পাশে ছিল, তারাই দূরে সরে গেছে।” তাঁর দাবি, শুক্রবার রাতেও পাড়ার লোকজন ফোন করে আগুন লাগার খবর জানান। পরিবার ছুটে গিয়ে দেখে পুরনো বাড়িটি জ্বলছে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর সবার।








