ফলতায় পুনর্নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছাল। ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খুনের চেষ্টা ও রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগে এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। এর মধ্যেই ফলতার রাজনৈতিক ময়দানে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন জাহাঙ্গির খান, যা পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই সাইদুল খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। তার মধ্যে খুনের চেষ্টা এবং এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ ছিল সবচেয়ে গুরুতর। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমেই শুক্রবার গভীর রাতে ফলতা থানার পুলিশ সাইদুলের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৪ মে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা। তবে এরই মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। তৃণমূলকে সরিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। এরপর ফলতায় বিজেপির কর্মিসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ১৯ মে প্রচারের শেষ দিনে ফলতায় মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আবহে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা গেলেও, শুক্রবার দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে দেখা যায় জাহাঙ্গির খানকে। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি শ্রীরামপুরে নিজের দলীয় কার্যালয়ে যান। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৯ এপ্রিল ভোটের সময় ওই অফিস থেকেই নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন তিনি।


রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি কর্মীরা সেই দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার নিজের অফিসে ফিরে জাহাঙ্গির খান দাবি করেন, তিনি কোথাও পালিয়ে ছিলেন না। তাঁর কথায়, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। অশান্তি এড়াতেই এতদিন প্রকাশ্যে আসিনি।”
তিনি আরও দাবি করেন, “পুলিশ আমাকে বাড়ি ফিরিয়েছে—এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি বাড়িতেই ছিলাম। এলাকার শান্তি বজায় রাখতেই নিজেকে আড়ালে রেখেছিলাম।”
ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে এই গ্রেপ্তারি এবং জাহাঙ্গির খানের প্রকাশ্যে প্রত্যাবর্তন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।







