সাড়ে ৯ ঘণ্টা জেরা শেষে ED দফতর থেকে বেরিয়ে রথীন, ‘যা জানার সব বলেছি’

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা জেরা করল ইডি। দফতর থেকে বেরিয়ে রথীন ঘোষ বললেন, “যা জানতে চাওয়া হয়েছে, সব বলেছি।”

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে ইডি দফতর থেকে বেরোলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। দীর্ঘ সময় ধরে জেরার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলেন তিনি। রথীনের কথায়, “আমার কাছে যা জানতে চাওয়া হয়েছে, সব বলেছি। এর থেকে বেশি কিছু বলব না।” রাজনৈতিক মহলে এখন জোর জল্পনা, এই জিজ্ঞাসাবাদে কি নতুন কোনও তথ্য উঠে এল?

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত কয়েক মাস ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন রথীন ঘোষ। এর আগে তাঁকে একাধিকবার তলব করা হলেও নানা কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। কখনও বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের ব্যস্ততা, কখনও আবার বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পাওয়ার কথা জানিয়ে ইডি দফতরে যাননি। সব মিলিয়ে পাঁচবার সমন এড়ানোর পর শুক্রবার সকালে অবশেষে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন তিনি।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরেই মূলত রথীন ঘোষকে জেরা করা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ দমদম এবং মধ্যমগ্রাম পুরসভায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়েই প্রশ্ন করা হয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, যোগ্যতার বদলে টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল বহু প্রার্থীকে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে গ্রেফতার হওয়া অয়ন শীল-সহ একাধিক অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি এবং জেরায় উঠে এসেছে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম। সেই সূত্র ধরেই রথীন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপ-পৌরপ্রধান এবং মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি।

উল্লেখ্য, এই মামলায় গত মঙ্গলবারই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তার আগে গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার তথা কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকেও। ফলে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাপ বাড়ছে।

এর আগেও রথীন ঘোষের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। পাশাপাশি সিবিআই-ও তাঁকে একই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। শুক্রবারের ম্যারাথন জেরার পর তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন