পুজোর ঘণ্টা বাজতেই বড় বৈঠক! আজ মিলন মেলায় মুখ্যমন্ত্রী, নজরে দুর্গাপুজোর অনুদান

নতুন সরকারের আমলে প্রথম দুর্গাপুজোকে ঘিরে আজ মিলন মেলায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পুজো কমিটিগুলির সরকারি অনুদান, বিদ্যুতে ছাড় ও কার্নিভ্যাল নিয়ে বড় ঘোষণা হতে পারে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নতুন সরকারের আমলে প্রথম দুর্গাপুজোকে ঘিরে বড়সড় আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মহালয়া থেকে পুজোর কার্নিভ্যাল—এবারের উৎসবের পরিকল্পনায় কী কী নতুনত্ব থাকছে, সোমবার মিলন মেলায় পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে তারই আভাস দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে সবথেকে বেশি আগ্রহ দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান ঘিরে—কারা অনুদান পাবেন এবং সেই অর্থের পরিমাণ কত হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পুজো কমিটিগুলি।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এটাই নতুন সরকারের আমলে প্রথম দুর্গাপুজো। ফলে এবারের পুজোকে ঘিরে প্রশাসনের পরিকল্পনাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মহালয়া থেকে শুরু করে পুজোর দিনগুলিতে একাধিক সরকারি উদ্যোগ এবং অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার মিলন মেলায় পুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে পুজোয় সরকারি অনুদান, বিদ্যুতে ছাড়, বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার খরচ এবং পুজো কার্নিভ্যাল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুদান নিয়ে অবশ্য সবচেয়ে বেশি কৌতূহল। গত জুনে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যে পুজো কমিটিগুলি সরকারি অর্থের উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করে, তাদের অনুদান দেওয়া হবে। যাদের সেই অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের ক্ষেত্রে অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

গত সরকারের আমলে শেষবার দুর্গাপুজোর অনুদানের অঙ্ক ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে প্রায় ৪৫ হাজার পুজো কমিটি সেই সরকারি অনুদানের আওতায় এসেছিল।

শুধু অনুদান নয়, পুজো কমিটিগুলির জন্য বিদ্যুৎ বিলেও ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। দমকল-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার খরচও মকুব করা হয়েছিল। এবার নতুন সরকারের প্রথম পুজোয় সেই সুবিধাগুলি থাকবে কি না, থাকলে তার পরিমাণ বা কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন হবে কি না—সোমবারের বৈঠকেই তার উত্তর মিলতে পারে।

এর মধ্যেই রথযাত্রার সময় রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক আয়োজককে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে দুর্গাপুজোর অনুদানের অঙ্ক নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে পুজো কমিটিগুলির মধ্যে।

পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি মাতৃমূর্তি, পুজোর আচার এবং ভোগদানের মতো বিষয় নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা মতামত সামনে এসেছে। এসব নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ফলে দুর্গাপুজো নিয়ে সরকারের সামগ্রিক অবস্থান এবং পরিকল্পনা কী, তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

নবান্ন সূত্রের খবর, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সরকারের তরফে বিস্তারিত পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। সোমবার পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি রাজ্যবাসীর সামনে সেই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে অনুদানের অঙ্ক থেকে শুরু করে পুজোর সরকারি আয়োজন—সবকিছু নিয়েই নজর থাকবে মিলন মেলার বৈঠকের দিকে।

এদিন সকালে নবান্ন সভাঘর থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচির সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্ধিত হারে বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে তাঁর হাতেই। ফলে সোমবার প্রশাসনিকভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিন হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন