দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল ভারত। তাসখন্ডে মরণবাঁচন ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মহেশ গাওলির ছেলেরা যোগ্যতা অর্জন করল এশিয়ার মূল মঞ্চে। তবে শুধু নিজেদের জয়ই যথেষ্ট ছিল না, তাই নজর ছিল উজবেকিস্তান-সিরিয়া ম্যাচের দিকেও। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে উজবেকিস্তান ২-০ গোলে জেতায় স্বস্তি ফিরল ভারতীয় শিবিরে।
‘বি’ গ্রুপে শুরুটা অবশ্য বেশ ভালোই করেছিল ভারত। প্রথম ম্যাচে সিরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল দল। কিন্তু পরের ম্যাচেই উজবেকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে হিসাব অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশ ম্যাচ কার্যত হয়ে দাঁড়ায় ‘ডু অর ডাই’। গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে মূল পর্বে যেতে হলে তিন পয়েন্ট পাওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প ছিল না।
সেই চাপের ম্যাচেই শুরু থেকে দাপট দেখায় ‘ব্লু কোল্টস’। বাংলাদেশকে আক্রমণে স্বস্তি দেওয়ার সুযোগ প্রায় দেয়নি ভারতের তরুণ দল। ২৫ মিনিটে আসে প্রথম সাফল্য। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ড্যানি লাইশ্রাম। গোলের পর ভারতের দাপট আরও বাড়লেও প্রথমার্ধে আর ব্যবধান বাড়েনি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ভারতের আক্রমণে আরও ধার দেখা যায়। ৬০ মিনিটে আসে ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। লম্বা থ্রো-ইন বাংলাদেশের বক্সের মধ্যে এসে পড়েছিল। বলটি বিশাল যাদবের পিছনের দিকে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে শরীরকে শূন্যে ভাসিয়ে দুরন্ত ব্যাক ভলিতে বল জালে পাঠান উত্তরপ্রদেশের ১৮ বছর বয়সি ফুটবলার।
বিশালের সেই গোল শুধু ভারতের ব্যবধানই বাড়ায়নি, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি ভারতীয় দলের হাতে তুলে দেয়। বাংলাদেশ তখন কার্যত দিশেহারা। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে ভারত। ৭৮ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। নিজেদের বক্স থেকে শুরু হওয়া আক্রমণ কয়েকটি পাসে পৌঁছে যায় বাংলাদেশের গোলমুখে, সেখানেই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচের ফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
৩-০ গোলে জিতেও অবশ্য তখনও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারেনি ভারত। কারণ গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী মূল পর্বে ওঠার জন্য অন্য ম্যাচটির ফলও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভারতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচ এবং সমর্থকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল উজবেকিস্তান বনাম সিরিয়া ম্যাচের ফলাফলের জন্য।
সেখানেও ভারতের পক্ষে এল স্বস্তির খবর। সিরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় উজবেকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে তারা। আর দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়া ভারত বাংলাদেশকে হারিয়ে ছয় পয়েন্টে পৌঁছে যায়। দ্বিতীয় স্থানে থেকেই মূল পর্বের টিকিট পেয়ে যায় ভারত।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ভারতের এই প্রত্যাবর্তন তাই নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। উজবেকিস্তানের কাছে হারের ধাক্কা সামলে যে ভাবে বাংলাদেশ ম্যাচে দল ঘুরে দাঁড়াল, তাতেই ফুটে উঠেছে তরুণ ভারতীয় ফুটবলারদের মানসিক দৃঢ়তা। আগামী বছর এশিয়ার মূল মঞ্চে এই দল কতটা চমক দেখাতে পারে, এখন থেকেই সেই প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে।



