ISL-এ নামার প্রস্তুতির মাঝেই বড় ধাক্কা খেল গোয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব চার্চিল ব্রাদার্স (Churchill Brothers)। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে আইলিগ জয় নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। সেই জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL) খেলার পথ খুলেছে। জামশেদপুর এফসির স্পোর্টিং লাইসেন্সের মাধ্যমে ISL-এ নামার প্রস্তুতি শুরু করেছিল চার্চিল। তার আগেই ক্লাবটিকে প্লেয়ার রেজিস্ট্রেশনে নিষেধাজ্ঞা জারি করল FIFA।
২ সেপ্টেম্বর, বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) জানায়, চার্চিল ব্রাদার্স এফসি গোয়া নতুন কোনও ফুটবলারকে রেজিস্টার করতে পারবে না। AIFF-এর কাছে এই নির্দেশ এসেছে FIFA-র তরফে। ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর FIFA এই নির্দেশ পাঠিয়েছিল।
তবে ঠিক কী কারণে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তা AIFF-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। একই ভাবে, কতদিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, সে বিষয়েও ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
সাধারণত ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি, পারিশ্রমিক বা প্লেয়ার রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে FIFA সংশ্লিষ্ট ক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কোনও ফুটবলার অভিযোগ জানালে বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নিয়ম রয়েছে। তবে চার্চিল ব্রাদার্সের ক্ষেত্রে ঠিক কোন ফুটবলারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
কতদিন নতুন ফুটবলার নিতে পারবে না চার্চিল?
FIFA-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চার্চিল ব্রাদার্সের উপর তিনটি রেজিস্ট্রেশন পিরিয়ডের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর অর্থ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন ফুটবলার সই বা রেজিস্টার করতে সমস্যায় পড়তে পারে গোয়ার ক্লাবটি।
ভারতীয় ফুটবলের আরও কয়েকটি ক্লাবও FIFA-র নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। মুম্বই এফসি এবং চেন্নাই সিটি এফসির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনির্দিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মহামেডান এসসির উপর রয়েছে দুই পিরিয়ডের নিষেধাজ্ঞা। ইন্টার কাশী এবং চার্চিল ব্রাদার্সের ক্ষেত্রে রয়েছে তিন পিরিয়ডের নিষেধাজ্ঞা।
ISL-এর আগে কেন বড় ধাক্কা?
জামশেদপুর এফসির স্পোর্টিং লাইসেন্সের মাধ্যমে ISL-এ খেলার সুযোগ পাওয়ার পর দ্রুত দল গঠনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল চার্চিল ব্রাদার্সের। নতুন ফুটবলার সই করে স্কোয়াড শক্তিশালী করাই ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু FIFA-র এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত সেই পরিকল্পনায় বড় বাধা তৈরি হল।
নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে নতুন ফুটবলার রেজিস্টার করতে পারবে না চার্চিল। ফলে ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ ফুটবলারদের নিয়েই দল সাজানোর উপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে ক্লাবটিকে।
তবে FIFA-র নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে যে সমস্যা রয়েছে, সেটি সমাধান করতে পারলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। বকেয়া বা চুক্তি সংক্রান্ত বিষয় মিটিয়ে সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করা গেলে রেজিস্ট্রেশনের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে চার্চিল ব্রাদার্সের ISL-এ অংশগ্রহণে সরাসরি কোনও বাধা তৈরি হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ISL-এ অভিষেকের আগে নতুন ফুটবলার নেওয়ার ক্ষেত্রে FIFA-র এই সিদ্ধান্ত যে ক্লাবের প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা, তা বলাই যায়।



