কলকাতার ঐতিহাসিক মহাকরণ তথা রাইটার্স বিল্ডিং (Writers’ Building) সংস্কারে আগ্রহ দেখিয়েছে আদানি গোষ্ঠী (Adani Group)। সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিং পরিদর্শন করেছেন সমীক্ষা সংস্থার কর্তারা। পরিদর্শনের সময় রাজ্যের পূর্ত দফতরের (Public Works Department) মুখ্য বাস্তুকার এবং অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মহাকরণ সংস্কারের সম্ভাব্য কাজের পরিধি এবং ভবনটির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই এই সমীক্ষা বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে কাঠামোর অবস্থা, প্রয়োজনীয় মেরামতি এবং সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার কাজ নিয়ে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া হয়েছে।
আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের এই পরিদর্শনে পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের মতো ঐতিহাসিক সরকারি ভবনের সংস্কারে কাঠামোগত নিরাপত্তার পাশাপাশি সরকারি পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক সমীক্ষার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে এখনও আদানি গোষ্ঠীকে মহাকরণ সংস্কারের আনুষ্ঠানিক বরাত দেওয়া হয়েছে, এমন কোনও সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি। ফলে আপাতত বিষয়টিকে চূড়ান্ত প্রকল্পের বদলে সম্ভাব্য সংস্কারকাজের প্রাথমিক মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মহাকরণ শুধু একটি সরকারি অফিস নয়, কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপত্যও। ১৭৭৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মীদের দফতর হিসেবে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এটি বাংলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মহাকরণ। ২০১৩ সালে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে (Nabanna) স্থানান্তরিত হওয়ার পর রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর থেকেই ঐতিহাসিক ভবনটির সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এবার সেই সংস্কার প্রক্রিয়াতেই আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সমীক্ষার পর কী ধরনের পরিকল্পনা সামনে আসে, সংস্কারের পরিধি কতটা হবে এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাঠামো কী হতে পারে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ঐতিহাসিক ভবনের চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখেই সংস্কারের কাজ করতে হবে। তাই সম্ভাব্য প্রকল্পে পূর্ত দফতরের ভূমিকার পাশাপাশি স্থাপত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আপাতত সমীক্ষা ও প্রাথমিক আলোচনার স্তরেই রয়েছে পুরো বিষয়টি।



